এটেনশন ডেফিসিট হাইপারএকটিভিটি ডিজঅর্ডার একটি স্নায়ুবিকাশজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই ডিজঅর্ডারের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সময়মত সঠিক চিকিৎসা না পেলে বড় বেলাতেও থেকে যায়। এই রোগে মানুষের মাঝে অমনোযোগিতার প্রবণতা দেখা যায়। প্রধান যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হল,
১. ভুলে যাওয়ার প্রবণতা।
২. সব সময় ছটফট করে।
৩. অতিরিক্ত এবং দ্রুত কথা বলে।
৪. বেপরোয়া আচরণ করে।
৫. ঝুঁকিপূর্ন কাজে বেশি আগ্রহী থাকে।
৬.অন্যদের সাথে মিশতে সমস্যা হয়।
৭. যেকোনো প্রলোভনে সহজেই প্রভাবিত হয়।
আমাদের দেশে অনেক বাবা-মা এই লক্ষণগুলো শিশুর মধ্যে থাকলেও সেগুলি খেয়াল করেন না। অতিরিক্ত দুষ্টুমির অভিযোগে অভিযুক্ত হয় শিশুটি। ফলে স্কুল এবং বাসা দুই জায়গাতেই শিশুকে শাসন করা হয়। এই অবস্থায় যে প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় সেখান থেকে পরবর্তীতে অন্যান্য মানসিক রোগের জন্ম হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বড়বেলায় যারা এই ডিজঅর্ডারে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা প্রধানত ঔষধ,থেরাপি ও কাউন্সেলিং। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হয়ে থাকে, যেমনঃ
১. দৈনিক এবং সাপ্তাহিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা ও ফলো করা।
২. বড় বড় কাজগুলো একবারেই করা চেষ্টা না করে ভাগ করে করা।
৩. একটি এপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি বা ইলেকট্রনিক রিমাইন্ডার ব্যবহার করা।
৪. সব সময় একটি রুটিন মেনে চলা।
৫. প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ।
৬. পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠদের সাহায্য নেয়া।
আমাদের মধ্যে যাদের এই লক্ষণ গুলো আছে তাদের উচিত দ্রুত মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা।