আজ কথা বলবো Empty Nest Syndrome নিয়ে। নাম টা বেশ ইন্টারেস্টিং, তাই না? আপনারা অনেকেই হয়তোবা এর নাম শুনেছেন। পাখির বাসা যেমন ফাঁকা হয়ে গেলে মা পাখির কষ্ট হয়, তেমন ই মানুষের নীড় ও যখন ফাঁকা হয়ে যায়, অধিকাংশ বাবা-মা কিছু মানসিক পরিবর্তন অনুভব করেন। ছেলেমেয়েরা যখন কোন কারণে বাসার বাইরে চলে যায় ( যেমন পড়াশোনার কারণে হোস্টেলে শিফট করা, মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়া অথবা অন্য কোন কারণে বাড়ির বাইরে সন্তান কে চলে যেতে হয়) বাবা-মার বেশ কিছু সমস্যা অনুভব করেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়।
চলুন দেখে নেই এই সিন্ড্রোমে কি ধরনের সমস্যা বাবা-মারা অনুভব করে থাকেনঃ
১।মানসিক অবসাদ
২। উদ্দেশ্যহীনতা
৩। ভয়, দুশ্চিন্তা, সন্তানের কিছু হবার আশংকা।
৪। মুড সুইং হওয়া।
৫। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
৬। সন্তান তার কথা মানছে না বা তাদের মূল্যায়ন করছেন এমন অনুভব বোধ করা।
অধিকাংশ প্যারেন্টস এর জন্য ই এটা একটা কম্পলিকেটেড ফেইজ যেটা এক সময় কেটে যায়। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কিছু টিপস ফলো করা যেতে পারেঃ
প্রথমেই মেনে নেয়া যে এই অনুভূতি গুলো খুব ই স্বাভাবিক অনুভূতি। সবাই ই কম বেশি এর ভেতর দিয়ে যায় এবং আপনার দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু শেষ হয়ে যায় নি।
সন্তানের সাথে রেগুলার ফোনে বা ভিডিও কলে কথা বলা।
নতুন পছন্দের কোন কাজ বা অভ্যাস শুরু করা যেটা মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
বাগান করা, পছন্দের বই পড়া, গান শোনা, টিভি দেখা, নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া এই ধরনের রিক্রিয়েশনাল কাজ গুলো এই সমস্যাটিতে বেশ সাহায্য করে।
নিজ নিজ ধর্মীয় আচারগুলো চর্চা করা।
বন্ধু-বান্ধব ও ক্লোজ আত্বীয়দের সাথে সময় কাটানো।
মেডিটেশন ও এক্সারসাইজ করা
পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
সন্তানের সাথে নিজের কথা ও কষ্টগুলো শেয়ার করা।
এই সমস্যাটি সাময়িক ভাবে থাকলেও এই টিপস গুলো ফলো করলে একসময় এটি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। আপনি নিজে বা আপনার পরিচিত কারোর মাঝে যদি উপরে বর্ণিত সমস্যাগুলো দেখতে পান, তাদেরকে এই টিপস গুলো ফলো করতে উৎসাহিত করুন।