Cyber Bullying

  • Post comments:0 Comments

“জান্নাত ও শুভ (ছদ্মনাম) দুজনের মধ্যে গভীর প্রেম। জান্নাত শুভকে অনেক ভালবাসে ও বিশ্বাস করে।মাঝে মাঝেই facebook এ সে শুভকে তার personal picture শেয়ার করে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে জান্নাত ও শুভর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।তাই জান্নাত চাচ্ছে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে। কিন্তু শুভ জান্নাতকে ভয় দেখাচ্ছে যদি সে break up করে তাহলে জান্নাত এর সব personal picture সে internet এ ছেড়ে দিবে।এই শুভকে তার অচেনা মনে হচ্ছে।শুভর কথা শুনে জান্নাত মানসিক অস্থিরতায় ভুগছে। সে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে পারছে না,ঘুমাতে পারছে না এমনকি পরিবারের কারো সাথে ঘটনাটা শেয়ার ও করতে পারছে না।তার জীবনটা হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে গেছে।”
“রুপা (ছদ্মনাম) ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। বন্ধুত্তপূর্ণ ও ভাল ব্যবহারের জন্য স্কুলের জনপ্রিয় মুখ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বন্ধু অনেক। একদিন এক আড্ডায় বন্ধুরা তার অগোচরে তাকে নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়।তার নাম এ ফেক একাউন্ট খুলে চ্যাট করে, চ্যাট হিস্ট্রির স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়া হয়।স্কুলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় রুপার জন্য। ইনবক্সে আসতে থাকে অশ্লীল সব বার্তা। মেয়েটি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কাউকে বিশ্বাস করাতে পারে না যে মেসেজ গুলা তার নয়। ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয় সে। শেষ পর্যন্ত বাবা-মা তাকে নিয়ে শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। “
ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করাকে cyber bullying বলে। Victim অনেক সময় এর জন্য সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে blackmailing ও kidnap এর মত ঘটনাও ঘটে থাকে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী এবং নারীরাই বেশি হচ্ছে সাইবার আক্রমণে।
এরকম বিভিন্ন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে আমাদের চারপাশে। সম্মান হারাচ্ছে নির্দোষ মানুষ।ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে অনেকে। এমনকি অনেকে চাপ সহ্য করতে না পেরে suicide করে থাকে।
বাংলাদেশ সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের উপর চালানো একটি গবেষণায় বলা হয়েছে -cyber bullying এর ঝুঁকি উদ্বেগজনক এবং বিশেষ করে যারা online games খেলে তাদের সাইবার আক্রমণের শিকার হবার ঝুঁকি বেশি।

*** অভিভাবকের প্রতি ***
সন্তানের হাতে ট্যাব, মোবাইল, স্মার্টফোন দেয়ার আগে সতর্ক হোন এবং চিন্তা করুন। Teenage ছেলে-মেয়েরা অনেক স্পর্শকাতর ও আবেগী হয়। তাই সতর্কতার সাথে তাদের সংগে কথা বলুন, তারা যেন এই চিন্তা না করে যে আপনি তাদের প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করছে।
#Family_communication অনেক জরুরি সাইবার বুলিং এর ক্ষেত্রে। বাচ্চারা যেন তাদের ইস্যু গুলো নিয়ে পরিবারের সাথে comfortably কথা বলতে পারে সেটা নিশ্চিত কর‍তে হবে। Non judge mental ভাবে respective wayতে বাবা-মাকে তাদের সব কথা শুনতে হবে। বাচ্চাদের বোঝাতে হবে family সব সময় তাদের সাথে আছে এবং তাদের সাপোর্ট করছে। নিজেরদের কাজের জন্য ছেলে-মেয়েরা যেন কোনো guilty feel না করে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

**** নিরাপত্তার জন্য****
Cyber bullying এর শিকার হলে নিজেকে দোষারোপ করবেন না।অন্যের আচরণের দায় আপনার না।
এরকম পরিস্থিতিতে আক্রান্ত হলে আপনি কখনো সাড়া দিবেন না, আপনিও পালটা আক্রমণ করবেন না।
Cyber bullying এর সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন।
Bullying থেকে বড় ধরনের হুমকির শিকার হলে আইনের সাহায্য নিবেন।

জরুরি পুলিশ সেবার জন্য ৯৯৯ এ কল করতে পারবেন।
এছাড়া বিটিআরসির computer security incidence response team এ অভিযোগ করতে (০২)৭১৬২২৭৭ নাম্বারে বা ইমেইল পাঠাতে পারেন contact@csirt.gov.bd।

~ Written by WSIF Psychologist
Nayeema Islam Antora

Cyber Bullying

Leave a Reply