পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) সাধারণত নারীদের ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সটিতে হয়। এই রোগে শরীরের ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন নামের হরমোন দুটি কমে গিয়ে এন্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এন্ড্রোজেন সাধারণত পুরুষ হরমোন বলে বহুল প্রচলিত হলেও, নারীদেহেও এর উপস্থিতি বিদ্যমান। তবে পিসিওএস এ এটি অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পায় যেটি শরীরের বিভিন্ন অংশে নানারকম বিরূপ উপসর্গ সৃষ্টি করে। অনিয়ন্ত্রিত পিসিওএস অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিকের সাথে সাথে ডায়াবেটিস, ব্রেইন স্ট্রোক, রক্তে মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল, বিভিন্ন প্রকার হৃদরোগ, রক্তনালীতে চর্বি জমা, নানাবিধ ক্যান্সার বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
অনেকে PCOS (Polycystic Ovarian Syndrome) আর PCOD (Polycystic Ovarian Disease) কে একই রকম মনে করেন। যদিও এদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছেঃ
পিসিওএস (PCOS) একটি হরমোনজনিত রোগ। এটি মহিলাদের গর্ভধারণের সমস্যা বা বন্ধ্যাত্বের (চিকিৎসাযোগ্য) অন্যতম কারন। এছাড়া, শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় (মেটাবলিক) রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত/সম্পর্কিত।
অপরদিকে, পিসিওডি (PCOD) এর উপসর্গগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর ও অধিকাংশক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য। এটি একটি বংশগত বা জেনেটিক রোগ এবং কোনো প্রকার বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করেনা।
পিসিওএস (PCOS) এর উপসর্গ বা লক্ষণসমূহঃ
১. দিনের বেশিরভাগ সময়ে ক্লান্তিবোধ করা
২. ঘুমের সমস্যা
৩. ঘাড়ে, গলায়, বগলে কালচে হয়ে যাওয়া
৪. হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া অনুভূতি
৫. ঠোঁটের চারপাশে, মুখ ও থুতনিতে অতিরিক্ত অবাঞ্ছিত লোম
৬. ওজন বেড়ে যাওয়া বা একটি নির্দিষ্ট ওজনে এসে আটকে যাওয়া বা আর না কমা
৭. অনিয়মিত মাসিক বা মাসিক না হওয়া
৮. ব্রণ ও বিভিন্ন চর্মরোগ হওয়া
৯. যৌন চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি, যেমনঃ হাইপার সেক্সচুয়াল (অতিরিক্ত যৌনাকাঙ্ক্ষা) বা হাইপো সেক্সচুয়াল (যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া) বা যৌন অক্ষমতা
১০. মাথার চুল পড়ে যাওয়া
১১. গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া
অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন ও হরমোনের তারতম্যের কারনে যাদের PCOS বা PCOD আছে তাদের নানা রকম মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা যায়, যেমন-
১. ভুলে যাওয়ার প্রবণতা
২. মুড সুইং বা মেজাজের পরিবর্তন
৩. খিটখিটে মেজাজ বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
৪. মানসিক চাপ
৫. হতাশা ও বিষন্নতা
৬. কাজে উৎসাহ কমে যাওয়া
৭. মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
৮. নিজের ক্ষতি করার মানসিকতা
শারিরীক এই পরিবর্তনের ফলে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। কারো যদি পূর্বে কোনো মানসিক রোগ থেকে থাকে, এক্ষেত্রে সেটাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই সমস্যাগুলো এড়াতে কি করতে পারি তা থাকবে পরের পর্বে।