You are currently viewing Bipolar Disorder

Bipolar Disorder

  • Post comments:0 Comments

Bipolar’ বা ‘বাইপোলার‘ এর বাংলা হলো ‘দুই মেরু’। অর্থাৎ এখানে মানুষের মানসিক সমস্যার দুটি মেরু বা পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক আচরণ বা অভিব্যক্তি দুটি ভিন্ন সময়ে পুরোপুরি ভিন্ন হয়ে উঠে।

যেমন, একটি সময় কোনো মানুষ যেকোনো কাজে  চরম উৎসাহ-উদ্দীপনা অনুভব করে। এই সময় তার চরিত্রে অনেক বেশি কর্মস্পৃহা এবং উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এই সময় ব্যক্তির মন অসম্ভব আত্নবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, যার কারণে অনেক ভয়াবহ ও বিপদজনক কাজে বাড়াবাড়ি রকমের সাহস দেখিয়ে ফেলেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়  মনের এই স্তরকে বলা হয় ‘ম্যানিয়া’।

অন্যদিকে কিছুদিন পরেই ধীরে ধীরে মনের এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। কিন্তু বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি এই অবস্থায় বেশিদিন থাকতে পারেন না। কিছুদিন পরেই আবার মনের আমূল পরিবর্তন ঘটতে থাকে। মনের মাঝে অকারণেই একধরনের অবসাদ অনুভব করেন। এক ধরনের নৈরাশ্য বা হতাশা পেয়ে বসে তার মন জুড়ে। অনেকের মাঝে থেকেও তখন নিজেকে একাকী মনে করতে থাকেন ব্যক্তিটি। কোনোকিছুতেই যেন তার মন বসতে চায় না। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সামাজিক যোগাযোগ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে চান।

##কারণসমূহ***

বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে এই রোগের সাধারণ কারণগুলো নিয়েই আলোচনা করা হল।

#বংশগত বা জিনগত

 পরিবারে যদি কারো এই মানসিক সমস্যা থেকে থাকে তবে পরবর্তী প্রজন্মের কারো মাঝে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

#অতিরিক্ত মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- চাকরিক্ষেত্রে জটিলতা, সংসারে জটিলতা, আর্থিক সমস্যা, ব্যবসায় ক্ষতি অথবা বিভিন্ন আবেগ-অনুভূতির কারণেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

#শৈশবের স্মৃতি

ছোটবেলার এমন কোনো মানসিক বা শারীরিক আঘাতের স্মৃতি যার কথা কাউকে বলা হয়ে ওঠেনি বা বলার যোগ্যও নয়; এই ধরনের ঘটনা বা স্মৃতি পরবর্তীতে এই ধরনের মানসিক সমস্যার জন্য দায়ী হয়ে উঠে।

##বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণসমূহ**

*অনেক বেশি কথা বলা এবং কথার মাঝে কাউকে কথা বলতে না দেয়া

*গল্প বা আড্ডার মূল বিষয়বস্তু থেকে অন্যমনস্ক হয়ে  পড়া।

*সর্বদাই বিভিন্ন চিন্তায় নিজেকে মগ্ন রাখা

*যেকোনো কাজে অতিরিক্ত আগ্রহ এবং পারদর্শীতার পরিচয় দেয়া

*অনেক বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া.

##চিকিৎসা**

বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসা একটি বড় বাঁধা। এর প্রধান কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই নিজের সমস্যা বুঝতে পারেন না অথবা বুঝতে পারলেও মানসিক সমস্যার ব্যাপারটি কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। এই কারণে পরিবারের অন্যান্যদের এই সমস্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি পরিবারের কারো এই সমস্যা থেকে থাকলে তা গোপন না করে সবাইকে জানিয়ে দেয়া উচিত। সমস্যা খুব তীব্র পর্যায়ে চলে গেলে কোনো অভিজ্ঞ মনোবিশেশজ্ঞ বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। নিয়মিত মেডিটেশন করা, যোগব্যায়াম করা, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন এবং এই রোগ সম্পর্কে অনেক বেশি জানার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

By Nayeema

Leave a Reply