ধরুন আপনি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত, বা অফিসের বস আপনাকে আজ ঝাড়ি দিয়েছে, বা আপনি কোন কিছু নিয়ে টেনশনে আছেন, অথবা আপনি খুব ক্লান্ত। কিন্তু হঠাৎ আপনার ছোট্ট শিশুটি এসে আপনার কোলে উঠার বায়না ধরেছে বা আপনার সাথে খেলতে চাচ্ছে। যে করেই হোক সে আপনার এটেনশান চাইছে। আপনি বিরক্ত হলেন বা রেগে গেলেন যেহেতু আপনার মুড ভালো নেই বা ওকে এটেনশান দেয়ার সময়, সুযোগ নেই। ওকে সরিয়ে দিতে হঠাৎ গলার স্বর ভারী করে ধমক দিয়ে দূরে যেতে বললেন। তখন হয়তো শিশুটি কান্না শুরু করে দিতে পারে বা খুব অবাক নয়নে মুখ ভার করে দূরে সরে যেতে পারে।
আপনার #মুড বা মেজাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার সন্তানের আচরণের ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে। আপনি যদি ক্লান্ত, চিন্তিত, বিরক্ত, ক্ষিপ্ত হোন তাহলে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব আপনার সন্তানের উপর পড়ার খুবই সম্ভাবনা আছে। কখনো কখনো আমাদের দেশের অনেক মা-বাবারাই তাদের নিজেদের রাগ, ক্ষোভ, হতাশা সন্তানের উপর ঝাঁড়েন। বিশেষ করে জয়েন্ট ফ্যামিলিতে এটা খুব কমন। দেখা যায় যে, শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অত্যাচার, কটুকথার অপমান, রাগ মা গিয়ে সন্তানের উপর দেখান, সন্তানকে মারতে থাকেন। অনেক মা আবার মেরে নিয়ে খুব কাঁদেন, খুব আফসোস করেন। কারণ সেও জানে তার সন্তানের কোন দোষ ছিলোনা। কিন্তু দোষ যাদের ছিলো তাদের সাথে না পেরে সন্তানকেই বেছে নিয়েছেন ক্ষোভ, হতাশা ঝেঁড়ে হালকা হতে।
যখনই মা-বাবাদের আচরণ #আনপ্রেডিক্টেবল হয় তখন শিশুরা খুবই #অনিরাপদ বোধ করে, উদ্বিগ্ন হয়। ধরুনঃ একদিন আপনার শিশুটি তার দামী একটি খেলনা ছুঁড়ে ফেলে দিলো এবং আপনি তাকে কিছুই বললেন না। আবার একই কাজ অন্য আরেকদিন করলো, কিন্তু আপনি সেদিন বকা দিলেন, এমনকি মেজাজ হারিয়ে মেরেই বসলেন। তাতে কিন্তু সে কনফিউজড হবে!
মা-বাবারা যখন নিজেদের মুডের প্রভাব শিশুর উপর দেখায় তার খুব #তীব্র এবং #দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিশুর আচরণে পড়ে, মানসিকতায় পড়ে। শিশুটি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, ভয় পায়। এমনকি সে বুঝে উঠতে পারেনা কি হচ্ছে তার সাথে, কেনই বা হচ্ছে!! আর এই না বুঝতে পারা ওকে #অসহায় করে তোলে।
মা-বাবার আচরণ সরাসরি সন্তানের আচরণে তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই মা-বাবাকে খুব সচেতনভাবে নিজেদের মুড নিয়ন্ত্রন করতে হবে, অন্তত শিশুর উপর যেন সেই মুডের প্রকাশ না হয় সেটা মেনে চলতে হবে।
আপনি যদি খুব প্রেশারে থাকেন, কোন কারনে চিন্তিত থাকেন, বিরক্ত থাকেন বা খুব ঘনঘন মুড সুয়িং হয় তাহলে নিচের কিছু #টিপস কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেনঃ
১। পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাবেন।
২। যতোটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার খাবেন, বিশেষ করে মায়েরা।
৩। এক্সারসাইজ করতে পারেন।
৪। পরিবারের অন্য কারো কাছ থেকে ওই বিশেষ সময়ে সাহায্য নিন।
৫। খুবই দরকার মনে করলে বা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রফেশনাল হেল্প নিন।
৬। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন।
৭। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। আপনার সমস্যা, সমস্যার কারন বা সমাধান বুঝার বয়স আপনার শিশুর হয়নি এটি মাথায় রাখুন।
৮। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সন্তানকে ইগনোর করুন তবুও আপনার নিজের রাগ, ক্ষোভ ওর উপর দেখাবেন না।
আমাদের কাছে শিশুরা ভালোবাসা, যত্ন ও সুশিক্ষা পাওনা—কোন ক্ষোভ, রাগ, বিরক্তি নয়।
সব শিশুদের জন্য তাদের পরিবার নিরাপদ এবং স্নেহময় হোক।
লেখাঃ শারমিন শামুন