You are currently viewing What to give to the child – bribe or reward

What to give to the child – bribe or reward

  • Post comments:0 Comments

আমরা মা-বাবা হওয়ার পর আমাদের সন্তানদের ঘিরেই আমাদের জীবন, ভাবনা, উচ্ছ্বাস, সুখ-দুঃখ, পরিকল্পনা আবর্তিত হতে থাকে। সন্তানেই যেন শুরু, আবার সন্তানে এসেই শেষ। আর এই প্রিয়তম সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হই আমরা। যেহেতু শিশুরা বড়দের মত বুঝেনা বা তাদের কিছু Developmental বিষয় থাকে তাই তারা বিভিন্ন সময়ে রাগ, জেদ বা বদমেজাজ দেখায়। তখন আমরা মা-বাবারা বেশ অসহায় বোধ করি, কখনো বিরক্ত হই, কখনো রেগে যাই। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ মা-বাবাই চট করে বা সহজে বাচ্চাকে শান্ত করতে বা কথা শোনাতে যে কাজটি প্রায়ই করে থাকেন তা হলো বাচ্চাকে কিছু দেয়ার মাধ্যমে শান্ত করা, কথা শোনানো। সেটা খাবার, টাকা, বই, খেলনা,  ভিডিও গেমস, টিভি দেখার অনুমতি সহ অনেক কিছুই হতে পারে৷ কিন্তু এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে সন্তান সাময়িকভাবে শান্ত হলেও বা কথা শুনলেও বাকি জীবনের জন্য অশান্ত বা অবাধ্যই থেকে যেতে পারে।

আমরা আজকে জানবো ঘুষ এবং পুরস্কারের মধ্যে পার্থক্য কি এবং কোনটা শিশুদের দেয়া উচিত।

**ঘুষ শব্দটি শুনতেই হয়তো অনেকের কাছে খারাপ লাগছে! আবার অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন যে এতো ছোট বাচ্চার সাথে আবার ঘুষের কি সম্পর্ক! কিন্তু আপনি নিজেও হয়তো অজান্তেই আপনার বাচ্চাকে ঘুষ দিয়ে এসেছেন, এখনো দিচ্ছেন। তাই এই বিষয়টি খুব পরিস্কারভাবে আমাদের জানা দরকার।

ঘুষ হলো বাচ্চাকে দিয়ে করাতে চাওয়া বা কোন কিছু করা থেকে বিরত রাখতে Instant আমরা যা দেই তাই ঘুষ। আমাদের দেশে অনেক মা-বাবাই বাচ্চার কান্না থামাতে, জেদ সামলাতে সবচেয়ে বেশি যে ঘুষটি দেন তা হলো-খাবার জাতীয় জিনিস। যেমন, ধরুন আপনি  রান্না করছেন, আপনার বাচ্চা কান্না করছে, কিছুতেই থামছে না। আপনি চট করে ওকে থামানোর জন্য চিপস, চকলেট দিয়ে কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করলেন। হয়তো কান্না থেমেও গেলো। কিন্তু আপনি যেটা করলেন, সেটাকেই ঘুষ বলা হয়। এটাকে ‘ঘুষ’ বলা হচ্ছে কারণ, এটা হচ্ছে সাময়িক সমাধান, এতে সে হয়তো সাময়িক ভাবে চিপস পাওয়ার খুশিতে চুপ করে গেছে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনও চর্চা কিন্তু তার ভেতরে গড়ে ওঠার সুযোগ হলোনা। এখানেই শেষ নয়, সে হয়তো ভবিষ্যতে আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশিত (ভালো কিংবা মন্দ ) কিছু পাওয়ার জন্য এই কান্না, বা জিদকে (সচেতন বা অসচেতনভাবে) কাজে লাগাতে পারে। যেহেতু ইতিপূর্বে এর অসংখ্য উদাহরণ আপনার কাছ থেকে দেখেছে ।

ঘুষ বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করে বোঝানোর জন্য একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। ধরুন, আপনি বাজারে কেনাকাটা করতে গেলেন। বাজার করার মাঝখানে হঠাৎ আপনার বাচ্চাটি জেদ (tantrums) দেখাতে শুরু করলো, আপনি খুব বিব্রত বোধ করতে শুরু করলেন এবং এই পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য আপনি instant চকলেট বা চিপস বা কোনও খেলনা হাতে দিলেন এবং বাচ্চাটি থেমেও গেলো। আপনি নিশ্চিন্ত মনে বাজার শেষ করে বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু এতে যেটা হলো , আপনার বাচ্চা চিপস কিংবা চকলেট বা খেলনার জন্যই কিন্তু চুপ করে গিয়েছিলো। তার মধ্যে কিন্তু এই শিক্ষাটা তৈরি হলো না , যে বাবা-মা যখন কোনও কাজ করে, তাদেরকে বিরক্ত করতে হয় না বা public place-এ অশোভন আচরণ করতে হয় না। অর্থাৎ, তার চারিত্রিক বা স্বভাবগত পরিবর্তন বা অর্জন কিন্তু হলো না। এখন নিশ্চয় আপনার মনে প্রশ্ন আসছে যে এমতাবস্থায় আমরা কী করতে পারি?! কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে পারি? ঘুষের পরিবর্তে আমরা আমাদের বাচ্চাকে কী দিতে পারি? ঘুষ না দিয়ে আমরা বাচ্চাকে যেটা দিতে পারি সেটা হলো #পুরস্কার

এখন “পুরস্কার” ব্যাপারটি কী? পুরস্কার হলো বাচ্চাকে দিয়ে কোনও কাজ করাতে চাইলে, বা কোনও কাজ করা থেকে বিরত রাখতে চাইলে সে যখন সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করে তখন তাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য কোনোকিছু দেয়াই পুরস্কার। আগের উদাহরণ থেকেই বিষয়টি আমরা পরিষ্কার হতে পারি। যেমন- আগেরবার তাকে আগেভাগেই চিপস/খেলনা/চকলেট দেয়ার মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনি আসলে তাকে একটি কাজ (যেটি দিয়ে তার চারিত্রিক পরিবর্তন হতে পারে) দিয়েছেন । কাজটা কী ? ধরুন, আপনি আপনার বাচ্চাকে যে কাজটি দিয়েছেন সেটা হলো এরকম–“তুমি যদি শান্ত থেকে আমাকে বাকি কাজটুকু করতে সাহায্য করো, তাহলে বাসায় গিয়ে তোমাকে খেলনা বা ভিডিও গেমস বা পছন্দের কোনও খাবার, বা পছন্দের কোনও কার্টুন দেখতে দেবো “। এক্ষেত্রে যেটা হবে , বাচ্চাটি নিজেই নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবে , নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা করবে। এভাবে ধীরেধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি চর্চা করতে করতে তার মধ্যে একটি আত্মনিয়ন্ত্রণ বোধ তৈরি হবে । বাচ্চাটির মধ্যে বাবা-মায়ের প্রতি সহযোগী মনোভাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটাই হলো reward বা পুরস্কার দেয়া।

এই পুরস্কার বা reward system চর্চা করার ব্যাপারে কিছু tips অনুসরণ করা যায়, যেমনঃ

১) আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চার রাগের/জিদের কারণ কী। বাচ্চা কাঁদলেই তাকে reward দিয়ে দেওয়া যাবে না। যেমন- toddler-রা দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার তাদের মেজাজ হারিয়ে ফেলে। এটা তাদের development এর একটা অংশ, তাই এখানে কাঁদলেই তাকে reward দেওয়ার দরকার নেই। অনেক সময় কান্নার মাধ্যমেই সে নিজেকে শান্ত করতে শিখে যায় বা তা শিখতে সাহায্য করা ভালো।

২) আপনার বাচ্চার পছন্দের কোনও জিনিস আপনি reward দেওয়ার ক্ষেত্রে খুঁজে নিতে পারেন। সেটাতেই আপনার বাচ্চার আগ্রহ বেশি থাকবে। তবে সেগুলো বয়স উপযোগী হওয়া ভালো।

৩) বাচ্চার মধ্যে কোন ভালো আচরণ তৈরি করার জন্য বা তাকে দিয়ে কোনও ভালো কাজ করানোর জন্য আপনি এই reward system কাজে লাগাতে পারেন। শুধুমাত্র কান্না থামানোর জন্য এটা ব্যবহার না করাটাই ভালো । খুব বিশেষ পরিস্থিতি হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।

৪) Reward এর ব্যাপারটি আপনি অবশ্যই আপনার বাচ্চার সাথে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলবেন, অর্থাৎ, তাকে কী কাজ করতে হবে, কাজ শেষে সে কী পুরস্কার পাবে, কখন পাবে ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকতে হবে।

৫) অবশ্যই প্রতিশ্রুতি রাখবেন, কখনোই প্রতিশ্রুতি ভাঙবেন না, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

৬) ভালোবাসা, প্রশংসা, হাততালি দিয়ে তাকে Appreciate করাও হতে পারে একটি অন্যতম ভালো পুরস্কার। সামান্য ‘গুড জব’ বলেও তাকে অনেক আত্ম-বিশ্বাসী করে তোলা যায়।

পুরস্কার যেমন বাচ্চাকে  বিশেষ পরিস্থিতিতে ভালো আচরন বা ভালো ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে, তেমনি ভালো কাজ বা আচরনগুলো নিয়মিত চর্চা করতেও আগ্রহী করে। আমাদের বাচ্চারা কোন নিয়ম-কানুন, ভালো-মন্দ জ্ঞান নিয়ে জন্মেনি। তাই এটা আমাদের দায়িত্ব পজিটিভ প্যারেন্টিং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে একটি সুন্দর জীবনবোধ তৈরি করে দেয়া।

লেখাঃ শারমিন শামুন

Leave a Reply