• Post comments:0 Comments

একটা খুব খারাপ সময়ে, আমার ডিভোর্সের পরে, আমার এক কাজিন ফ্রেন্ড হিসেবে পাশে থাকে। ফোন দেয়, টুকটাক কথা বলে, বাসায় আসে। তারো আগে থেকে লাস্ট ইয়ার থেকেই উনি নক করতেন, লাস্ট ইয়ারে অফিসিয়াল ট্যুরে গিয়ে আমার জন্য গিফট আনে। খুব অবাক হইসিলাম, হঠাত আমার জন্য গিফট কেন।

ওই কাজিন ভাইও ম্যারিড, বাচ্চা আছে। কিন্তু ক বছর আগে ওর ওয়াইফ একটা এক্সট্রা ম্যারাইটাল এফেয়ারে জড়িয়ে যায়। সেটা ফ্ল্যাশ হলে ওর কাজিন পুরোপুরি ভেংগে পড়ে। দু বছর আগের ঘটনা এটা, কিন্তু ওদের ছাড়াছাড়ি পর্যায় পর্জন্ত গেলেও শেষ পর্জন্ত হয় না। একসাথে আছে কিন্তু কোনো ট্রাস্ট নাই।

এক পর্যায়ে এসে এই পাচ ছয় মাস আগে সে আমাকে ভালবাসেএই কথা বলে। সে বিসিএস ক্যাডার। কাজের ক্ষেত্রে, পড়াশোনায় খুব মেধাবী। কিন্তু দেখা যায় কি ওর ভালবাসার এক্সপ্রেশন খুব কম। বলে যে ভেংগে চুড়ে আর ভালবাসা আগের মত করে দেখাতে পারি না। আবার ও বলে যে চল বিদেশ চলে যাই, একসাথে থাকবো কিন্তু আর বিয়ে করবো না। “

মানে সে রিলেশন চায় আনকন্ডিশনাল। এটাই কন্ডিশন।

এখন হায়ার স্টাডি করতে চলে গেছে। যাওয়ার আগে আমি দেখা করতে চাইসি। এক সপ্তাহ আগে লাস্ট দেখা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় করতে না পারায় খুব নরমাল কিছু কথা হইসে যদিও রাগের কথা, আমি বলসি থাক আর দেখা করতে হবে না। আর রিলেশনশিপ এ সবাই কেয়ার চায়, আপনি হয়তো এ কারনেই কাউকে ধরে রাখতে পারেন না।

এক মাস হয় চলে গেসে। এখন সে বলে আগের মত ফিলিং টা আর নাই। চলে যাবার আগে দেখা করার জন্য আমি নাকি এত পেইন দিসি। আমি বুঝিনা এটা কি ভুল ছিল? আমি দেখতেসি ও এর সাথে ওর সাথে দেখা করতেসে। শুধু আমার বেলায় নাই।

কিন্তু আমার ভুলতে কস্ট হচ্ছে। খুব ব্রোকেন টাইমে লাইফে আসছিল তো। একস্ময় আমাদের ফ্যামিলি চাইসিল আমাদের বিয়ে হোক, কিন্তু দুজনেরি এফ্যায়ার ছিল

আমি চাচ্ছি এটা থেকে বের হয়ে আসি।

তবে আমি উনি জখন রিলেশনশিপ করতে চায় তখনি আমি বলে নিসিলাম, “ভাইয়া আমি এভাবেই ব্রোকেন, আপনি কিন্তু আর কস্ট দিতে আইসেন না”

সে আমাকে অনেকবার বলসে ” আমি তোমাকে কখনো কস্ট দিবো না”

আমি কিন্তু ভাই হিসেবে দেখসিলাম ওনাকে সারাজীবন, উনিই কিন্তু দূর্ব্লতা প্রকাশ করসে, আবার উনিই সরে যাচ্ছেন।

উনি প্রচুর ড্রিংক করেন, আর সেসময় ই ওনার আমাকে মনে হইতো আর কল দিত। অনেক কান্নাকাটি করসে।

ভাবীর এক্সট্রা ম্যারাইটাল এফ্যায়ার টা জানার পরে সে অনেক উল্টাপাল্টা করসে। মান্থলি বেসিসে একটা মেয়েকেও টাকা দিয়ে রাখতো।

মাঝে আমার সাথে এটা উনি কি করলো, আদৌ ভালবাসা ছিল কিনা, মাঝেমাঝে মনে হয় ছিল, আবার মনে হয় না।

খুব এলোমেলো করে দিয়ে গেল।

আমাকে অনেকবার বলসে যে ওনার দুইটা বাচ্চা আছে, আমি আছি। নতুন করে ভাবতে হবে।

কিন্তু আমি কখনো বলিনাই যে ভাবীকে ডিভোর্স দিতে হবে। বা আমার জন্য জেন এরকম না হয়। উনি বলসেন ওনার সংসার আগের থেকেই ভাংগা।

এ অবস্থায় এখনো মাঝেমাঝে উনি আমাকে নক করেন, একেবারে যোগাযোগ ও বন্ধ করে দিচ্ছেন না। ওনার ফ্যামিলি নিয়ে গেছেন উনি যেখানে হায়ারস্টাডিজ-এর জন্য গিয়েছেন। এখানে আমার ফল্ট কি ছিল, কেন কাছে আসছিল, আর কেনই বা এখন এভয়েড করছেন।

Solution by an expert

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর করে গুছিয়ে আপনার জীবন একটা  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করার জন্য। আপনার কথা থেকে বুঝতে পারলাম যে আপনার  ডিভোর্স হওয়ার পরে আপনার একজন কাজিন ফ্রেন্ড হিসেবে আপনার পাশে ছিলেন এবংপরবর্তীতে আপনাদের মধ্যে একটা ইমোশোনাল বন্ডিং তৈরি হয় যা মূলত আপনার কাজিনের সাইড থেকে বেশি ছিলো। যেহেতু আপনার ব্রোকেন সময়ে সে এসেছিল তাই আপনার ও তার প্রতি একটু সফট কর্ণার কাজ করছিল হয়তো যেখানে উনি আপনার প্রতি দুর্বলতা বেশি প্রকাশ করতেন। পরবর্তীতে উনি যখন ওনার অনুভূতি পরিবর্তন করলেন তখন আপনি অনেক আঘাত পেলেন। এটা আপনার জন্য সত্যিই অনেক কষ্টের।  আপনি বলেছেন যে আপনি চাচ্ছেন এখান থেকে বের হয়ে আসতে এবং আপনি কখনো চান নি ভাবী কে ডিভোর্স দিতে হবে এমনটা। আপনি যদি একটু খেয়াল করে দেখেন যে এখানে আপনার জায়গা থেকে কোন ভাবেই কোন ভুল ছিল না। এখন অন্য মানুষের উপর তো আমাদের কনট্রল নাই, আমরা চাইলে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারবো।আশা করছি আপনি দ্রুতই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

Leave a Reply