You are currently viewing Baby problem: Instant mother instant solution

Baby problem: Instant mother instant solution

  • Post comments:0 Comments

চলুন কল্পনায় একটু সিনেমার অংশবিশেষ দেখি। শাবানা লুকিয়ে লুকিয়ে তেঁতুল খাচ্ছে এবং আলমগীর তা দেখে হা করে অবাক হয়ে শাবানার কাছে জানতে চাইলো সে তেঁতুল কেন খাচ্ছে! তখন শাবানা লজ্জ্বায় লাল হয়ে আলমগীরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে বললো ‘ওগো তুমি বাবা হতে যাচ্ছো’! তখন আলমগীর ‘তাই নাকি’ বলেই শাবানাকে কোলে তুলে নিয়ে গান গাওয়া শুরু করে দিল। এই ৪-৫ মিনিটের গানের মধ্যেই শাবানার প্রসব ব্যথা শুরু হলো, বাচ্চার (ছেলে) ডেলিভারিও হয়ে গেলো। এবার গান শেষ। আলমগীর বাচ্চার জন্য তেল পাউডার, জামা-কাপড়, দুধ কিনে আনে। শাবানা ছেলের কপালের কোনে কালো টিপ পরাতে পরাতে গান গাইতে শুরু করে দেয় ‘তুই আমার বুকের মানিক, তুই যে আমার সাত রাজার ধন’। গান চলতে চলতেই ছেলে স্কুল-কলেজ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। এবার গান শেষ হওয়া মাত্রই ছেলে ছুটে এসে মাকে কোলে তুলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘ মা আমি ফার্স্ট হয়েছি, মা’। শাবানা খুশিতে চোখ মুছতে মুছতে ছেলের কপালে চুমু খায়।

আমরা সবাই সিনেমায় এমনটা দেখেছি নিশ্চিতভাবেই। সিনেমা ২-২ঃ৩০ ঘন্টার হয়ে থাকে তাই ওখানে সবকিছুরই শর্টকাট দেখানো হয়। কিন্তু এই শাবানার ভূমিকাটাই যদি আমরা বাস্তবে চিন্তা করি তাহলে কি দেখি আমরা? একটা মেয়ে যখন কনসিভ করে তারপর থেকেই শুরু হয় তার যুদ্ধ, নতুন এক জীবন। অনেক মেয়েরা তো  শুধুমাত্র কনসিভ করার জন্যই অনেক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যায়। কনসিভ করার পর শুরু হয় প্রতিটি দিন পার করার এক চ্যালেঞ্জ। মর্নিং সিকনেস, বমি করা, খেতে না পারা, বার বার বাথারুমে যাওয়া সহ আরো যে কতশত কষ্ট, যন্ত্রনা। তার উপর হরমোনের থাবা তো আছেই। মেয়েরা দিন গুনতে থাকে কবে এই বমি করার দিন পার হবে, কবে মর্নিং সিকনেস ঠিক হবে, কবে শান্তি করে ঘুমাবে!! মনে হতে থাকে বাচ্চা হয়ে গেলে বুঝি এগুলোর থেকে মুক্তি। কিন্তু হায়! তারা তো আগে থেকে জানেনা বা ভাবতে পারেনা, যে এই যুদ্ধের শুরু আছে কিন্তু শেষ বলে কিছু নেই। বাস্তবের এই শাবানাদেরকে প্রতিটি মুহুর্ত, প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস, প্রতিটি বছর পার করে যেতে হয় আরো সামনের দিকে। বাস্তবে কোন ফরোয়ার্ড বাটন নেই যে একটু টেনে দিয়ে দ্রুত সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।

কিছু কিছু মায়েদের দেখি বাচ্চা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দেন, পার্সোনালি যোগাযোগ করেন। ‘ আমার বাচ্চা খেতে চায়না, আমার বাচ্চা অনেক জেদ করে, আমার বাচ্চা আক্রমনাত্মক আচরন করে, আমার বাচ্চা কথা কম বলে, সামাজিক না, আমার বাচ্চা শেয়ারিং অপছন্দ করে এই জাতীয় আরো শতেক বিষয় নিয়ে অভিযোগ লিখেন। তবে অনেকেই এইসব সমস্যার একদম ইনস্ট্যান্ট সমাধান চান। অনেকটা এমন যে ‘আপনার বাচ্চা জেদ করে? এই নিন এই পানি পড়াটা খাওয়াবেন এবং এক ঘন্টা পর থেকে ও আর এটা করবেনা’! কিন্তু এটা কি আদৌ সম্ভব, আদৌ এমন কিছু থাকতে পারে? নাহ নেই, বাস্তবে এমন কিছু নেই। বাচ্চার আচরনগত  এবং মানসিক বিষয়গুলো সাধারন সর্দি-জ্বরের মতো নয় যে একটা নাপা সিরাপ দিয়ে বলা যায় যে এটা খাইয়ে দিন  ভালো হয়ে যাবে।

বাচ্চার আচরন বা মানসিক বিষয়গুলোর জন্য কোন নাপা সিরাপ নেই। এগুলোর জন্য কেবল আর কেবলমাত্র সঠিক নিয়মে কিছু ট্রেইনিং বা কারেকশন প্রসেসেই হয়ে থাকে। এবং এই প্রসেস একটা সময় সাপেক্ষ বিষয়। এই বিষয়ে কেউ আপনাকে ১+১ সমান ২ টাইপ ফর্মূলা দিতে পারবেনা! একটা ছোট উদাহরন দিয়েই যদি বলি তাহলে বিষয়টা হয়তো আরেকটু সহজবোধ্য হতে পারেঃ

ধরুন, আপনার বাচ্চা জেদ করে, প্রচন্ড রাগ দেখায়, তার মনমতো কিছু না হলেই খুব আক্রমনাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়। আপনি এসব নিয়ে বিপর্যস্ত, এর সমাধান চান এবং যত দ্রুত সম্ভব এটা ঠিক হোক চান। এক্ষেত্রে আপনাকে দুটো বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবেঃ

১। আপনাকে জানতে হবে আপনার বাচ্চার বয়স এবং এই বয়সী বাচ্চাদের আচরন বা তাদের মানসিক ডেভেলপমেন্টগুলো কেমন হয়। সাধারনত১-৩ বছর বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে এই সমস্যাগুলো খুবই কমন। কারন এই সময়ে তারা ভালো-মন্দ ঠিকঠাক বোঝেনা আর তাদের মানসিক এবং আচরনগত বিষয়গুলো প্রথমবারের মতো তৈরি হতে শুরু করে। আর আপনার বাচ্চা একা নয় যে এমন করছে, অসংখ্য বাচ্চা এগুলো করছে এবং প্রতিদিনই করছে।

২। এই আচরনগুলো ঠিক করার কোন শর্টকাট নেই, আবারো বলছি কোন শর্টকাট নেই। আপনাকে অবশ্যই এটা মেনে নিয়েই ধৈর্য্য ধরে সঠিক পদ্ধতিতে বাচ্চার ওই আচরনগুলো শুধরে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে৷ কোন বাচ্চা একমাসে, কোন বাচ্চা দুই মাসে, আবার কোন বাচ্চা পনেরো দিনেও এই শিক্ষাটা গ্রহন করে সঠিক আচরন করতে পারে যেমনটা আপনি আশা করেন। একেক বাচ্চার একেক রকম সময় লাগে। আবার একই পদ্ধতিও সবার জন্য  সবসময় কাজ নাও করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং খুঁজে নিতে হবে আপনার আর আপনার  বাচ্চার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি৷

আপনি একজন মা, পৃথিবীর সবচেয়ে মানসিক শক্তির অধিকারী একজন মানুষ। প্রেগন্যান্সির সেই ভয়াবহ কষ্টের ৯ মাস আপনিই পার করেছেন, লেবার টেবিলে আপনিই মৃত্যু যন্ত্রনাকে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়ে সন্তান কোলে করে বাড়ি ফিরেছিলেন। আপনিই সেই মা যে সারা দিন-রাতে দুই-তিন ঘন্টা ঘুমিয়েও একটা নবজাতককে আগলে রেখেছিলেন পরম ভালোবাসায়। আপনিই সেই মা যে একেকটা দিন যুদ্ধ করে কতশত সমস্যার পাহাড়-পর্বত ডিঙিয়ে সন্তানকে নিয়ে আজকের দিন পর্যন্ত এসেছেন।  তাহলে আপনার মতো একজন শক্তিশালী মা কেন এখন এতো সহজেই হতাশ হয়ে ভেঙে পড়বেন, ধৈর্য্য হারাবেন??!!  আমি জানি আপনি ধৈর্য্য হারাননি, আসলে মায়েদের কাজগুলো অনেক কঠিন, অনেক চ্যালেঞ্জিং  তাই আপনি হয়তো সাময়িক ক্লান্তিতে ভুগছেন। কিন্তু আপনি হেরে যাবেন না, যেতে পারেন না। আবারো ক্লান্তি জয় করে উঠে দাঁড়াবেন নতুন শক্তি নিয়ে।

মনে রাখবেন মাতৃত্বের কোন শর্টকাট নেই, এই বিষয়ক সমস্যার কোন ইনস্ট্যান্ট সমাধান নেই। আপনাকে প্রতিটি সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হবে, ফাইট করতে হবে এবং বিজয়ী হতে হবে। আর মায়েরা অনেক কিছু পারে। মেয়েদের অনেক শক্তির সন্ধানই তারা পায় মা হতে গিয়ে এবং মা হওয়ার পর। নিজেকে সে নতুন করে আবিষ্কার করে। মাতৃত্ব কোন বোঝা বা সমস্যা নয়, এটা একটা বিশেষ ক্ষমতা, বিশেষ উপহার। আর আপনি সে সৌভাগ্যবান যে এই উপহার পেয়েছেন। সকল মায়েদের জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

লেখাঃ শারমিন শামুন

Leave a Reply