You are currently viewing Dream Bigger Raise One of The Best Kids

Dream Bigger Raise One of The Best Kids

  • Post comments:0 Comments

আজকাল প্রায় সব মা-বাবাকেই বলতে শোনা যায় যে তাদের জীবনের #লক্ষ্য হলো সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, ভালো মানুষ হিসেবে বড় করা। এই কথাগুলো মা-বাবা হিসেবে বলতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি শ্রোতা হিসেবে শুনতেও ভালো লাগে। কিন্তু আমরা যে বলি সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবো, ভালো শিক্ষা দিবো, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো, সেগুলো কেমন ভালো, কতোটা ভালো, বা কিভাবে দিবো সেই ভালো শিক্ষাগুলো তা কি আমরা আগে থেকে ভেবে রেখেছি বা ঠিক করে রাখছি? প্রশ্নটি বা এই ভাবনাটি যতো সহজ লাগছে শুনতে আদতে কিন্তু মোটেও তা নয়। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

অনেক মা-বাবাই ভাবেন তিনি জীবনে যা পাননি, যা করতে পারেননি সন্তানকে তা দিবেন, সন্তানকে দিয়ে তা করাবেন। কিন্তু শুধু এটুকুই কি আমাদের সন্তানকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবে? আমি যদি শুধু আমার না পাওয়ার জায়গাগুলোই পূরণ করি আমার সন্তানকে দিয়ে তাহলে সর্বোচ্চ আমি যেমন হতে চেয়েছিলাম বা আমার নিজেকে যেমন দেখার স্বপ্ন ছিলো সে তেমন হতে পারে। কিন্তু তাতে তো সে সামনের দিকে এগুলো না, বরং পিছনে আমি কি হতে পারিনি সে এখন এসে তা হবে। সে আমাকে ছাড়িয়ে যাবেনা! এক অর্থে কিন্তু সে পিছিয়েই থাকলো!

#বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রতি ৫০ বছরে IQ score গড়ে ১৫ পয়েন্ট বাড়ে। তার মানে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় আমাদের সন্তানেরা আমাদের চেয়ে বেশি মেধা নিয়ে জন্মেছে। তাহলে আমার সন্তান আমার অপূর্নতার জায়গা পূরণ করতে গিয়ে কিন্ত তার নিজের মেধার, ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেনা!!

সন্তানকে এমন সব শিক্ষা আমাদের দেয়া উচিত যাতে সে আমাদের ছাড়িয়ে যায়। সেটা যে শুধু ভালো চাকরি পেয়ে, বাড়ি, গাড়ির সংখায় তা নয়।  বরং #মানবিক_গুনে, উদারতায়, ভালোবাসায়, মানবসেবায় যেন ছাড়িয়ে যায়। কারণ বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকের একাউন্টে ভারী ভারী সেভিংস পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাকে কিছুটা আরামদায়ক করতে পারলেও জীবনকে স্বার্থক, সুন্দর, অর্থপূর্ণ করতে কিন্তু #মানবীয়_গুনাবলী লাগে!! মানুষের মনুষ্যত্ব হারিয়ে গেলে কি হতে পারে তা আমরা প্রতিদিন আমাদের আশেপাশে ছোট-বড় বিভিন্ন ঘটনায় প্রমান পাই। কিছুদিন আগে ভারতের কেরালায় একটি অন্তঃসত্ত্বা হাতিকে খুন করার ঘটিনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট যে মানুষ কতোটা হিংস্র হতে পারে, কতটা ভয়ংকর হতে পারে। 

পৃথিবীর সব মানুষকে কিন্তু মোটা দাগে #তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১। কিছু মানুষ যারা খুবই ভালো, পরোপকারী। পৃথিবী আর পৃথিবীর মানুষের জন্য যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে  যান। একটি কুকুর-বিড়ালের জন্যও যাদের মন কাঁদে। যারা নিজের সুখ বিসর্জন দেন অন্যের মুখের হাসি দেখতে, অন্যের আহার যোগাতে।  তাও বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করেন না বরং ভেতরের তাগিদ থেকেই করেন।

২। যারা খুবই খারাপ, অন্যের ক্ষতি করে,অপরাধ করে, লোভ, হিংসা, স্বার্থপরতাই যাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এরা অন্যের জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে বা অন্যকে বঞ্চিত করে নিজে ধনী হয়। মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলাই এদের কাজ। এরা প্রতিনিয়ত পৃথিবীটাকে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে!

৩। আমার, আমাদের  মতো এভারেজ মানুষ। যাদের বলা যায় আমজনতা। এরা অন্যের ক্ষতি বিশেষ করেনা, আবার ভালোও তেমন করেনা। কারো সাতে পাঁচে নাই, কে ক্ষুধায় মরে গেল, কে অন্যায় করলো কিছুতেই বিশেষ কোন বিকার নেই। শুধু নিজের জীবন নিয়ে, নিজের ফ্ল্যাটকে পৃথিবী মনে করে বেঁচে থাকে।। 

**আরেকটু সহজ করে যদি বলি–ধরুন, আপনি যে এলাকায় বাস করেন সেখানে মোট ১০০ জন মানুষ আছে। প্রথম ভাগের ভালো মানুষ আছেন সর্বসাকুল্যে ৫ জন। আর খুব খারাপ মানুষ আছে ১৫ জন। আর এভারেজ মানুষ আছে ৮০ জন। তাহলে কি দাঁড়ালো? এভারেজ মানুষের সংখ্যাই বেশি। এই এভারেজ মানুষগুলো ওই ১৫ জনের মতো ক্ষতিকর এবং ভয়ংকর না হলেও, ওই ৫ জন বেস্ট মানুষের মতো খুব ভালোও কিন্তু নয়।

পৃথিবীর স্বার্থে, দেশের স্বার্থে,  নিজেদের স্বার্থে  ওই ৫ জনের সংখ্যাটাকে আমাদের ৫০ জনে উন্নীত করা দরকার। একই সাথে ওই ১৫ জনের সংখ্যাটা যেন আর বাড়তে না পারে বরং যেন আরো কমে যায় সেই চেষ্টা করা দরকার। আর আমরা এই চেষ্টা করার সুযোগ কিন্তু পেতেই পারি যেহেতু আমাদের সন্তান আছে। আমরা আমাদের সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্বাচন করতে পারি যে কোন গ্রুপের মানুষ হিসেবে তাকে বড় করে তুলবো। পৃথিবী আমার সন্তানের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে নাকি উপকৃত হবে  তা নির্ভর করবে আমরা তাকে কিভাবে এবং কেমন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই তার উপর।

এভারেজ মানুষ অনেক আছে পৃথিবী জুড়ে, আর এভারেজ মানুষেরা খুব বিশেষ কোন ভূমিকা রাখেনা বা রাখতে পারেনা পৃথিবীর উন্নয়নে। চলুন  এবার আমরা #উত্তম_মানুষের সংখ্যাটা একটু বাড়াই। আমাদের সন্তানেরা ভালো পড়াশোনা করে, ভালো চাকরি পাওয়ার সাথে উত্তম মানুষ হওয়ার কোন বিরোধ নেই। তবে শুধু পড়াশোনা, ভালো বেতনের চাকরি, বিলাসবহুল বাড়ি আর দামী গাড়ি কিন্তু উত্তম মানুষ হওয়ার জন্য দরকারী নয় বা পূর্বশর্ত নয়। উত্তম মানুষ হওয়ার জন্য দরকার #মানবীয়_গুনাবলী। যার বীজ কেবল আমরাই আমাদের সন্তানদের ভেতর রোপন করতে পারি।

আজ থেকে স্বপ্নটাকে বড় করুন, মনের দৃষ্টিটাকে উন্মুক্ত করুন। সন্তানকে শেখান শুধু নিজের জন্যই নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হয়, কাজ করতে হয়, বাঁচতে হয়। আসুন আমরা মা-বাবারা নিজেরা  মানবিক মানুষ হয়ে বাঁচি, সন্তানদের সেরা মানুষ হিসেবে তৈরি করি। আমাদের সন্তানেরা যেন  ছাপ রেখে যেতে পারে তাদের উপস্থিতির।

আমার সন্তান যেন হাজারো মানুষের মুখের হাসির এবং স্বস্তির কারণ হতে পারে পৃথিবীর মানুষের কাছে  এই আমার কমিটমেন্ট।

লেখাঃ শারমিন শামুন

Leave a Reply