‘সম্পর্ক’ শব্দটি আমাদের কাছে একটি অন্যরকম শব্দ। আর তা যদি হয় মা-বাবা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক তাহলে তো সেটা আরো আলাদা৷ সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে সবচেয়ে সংবেদনশীল সম্পর্কগুলোর মধ্যে এটি একটি। মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্কের ধরণের উপর সন্তানের জীবনের বিভিন্ন দিক কেমন হবে তা অনেকখানি নির্ভর করে। এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে, সচেতনভাবে তৈরি করা না গেলে ছোট-বড় নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখী হতে হয়। আমাদের নিজেদের সম্পর্ক কেমন ছিলো আমাদের মা-বাবাদের সাথে মনে পড়ে?
আমাদের সময়ে মা-বাবার সাথে আমাদের সম্পর্কটা ঠিক বন্ধুত্বপূর্ণ বা খুব খোলামেলা ছিলো না। কেমন যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল ছিলো মা-বাবা আর আমাদের মধ্যে। টিনেজে আনাদেরকে কেউ যখন কোন প্রেমপত্র দিতো, তখন ওই বয়সে আমাদের কি করার কথা আমরা তা বুঝতে পারতাম না। আবার আমরা আমাদের মা-বাবার কাছে গিয়ে বিষয়টি কিন্তু বলতেও পারতাম না! আবার, কখনো কারো সাথে যদি প্রেম হয়ে যেত সেটাও মা-বাবাকে বলার সুযোগ ছিলোনা। প্রেম সংক্রান্ত কোন জটিলতা বা বিপদে মা-বাবাকে বলে সাহায্য বা পরামর্শ চাইতে পারতাম না! এমনকি নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে চাই বা মা-বাবার ঠিক করা পাত্রকে আমাদের পছন্দ না তাও বলার সাহস বা বলার মতো সেই ধরনের আন্তরিক সম্পর্ক আমাদের মা-বাবার সাথে ছিলো না।
পড়ালেখার বেলায়ও সাইন্স, কমার্স, না আর্টস পড়বো এ ব্যাপারে নিজের পছন্দ অনেকেই আমাদের মা-বাবাকে জানাতে পারিনি আমরা! মা-বাবার সিদ্ধান্ত বা চাওয়াই যেন শেষ কথা ছিলো আমাদের জীবনে। আবার মা-বাবারা নিজেরাও নিজেদের কেমন জানি আড়াল করে রাখতেন, নিজেদের ব্যক্তিগত ভালো-লাগা, মন্দ-লাগাও আমাদের সাথে শেয়ার করতেন না। নিজেদের দোষ-গুন, সুবিধা-অসুবিধা আড়াল করে শুধু মা-বাবা হয়েই থাকতেন আমাদের সামনে।
দেখা যেত পাশের বাড়ির বন্ধু/বান্ধুবী বা প্রতিবেশীও আমাদের একান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতো যা আমাদের মা-বাবারা, মা-বাবা হয়েও জানতে পারেননি বা জানলেও দেরিতে জানতেন!! কারণ তারা মনে করতেন সন্তানের সাথে ফ্রি হলে বা তাকে সব কথা বলার সুযোগ দিলে, এমনকি নিজের কথা শেয়ার করলে হয়তো কর্তৃত্ব ক্ষুন্ন হতে পারে বা বাচ্চারা পেয়ে বসবে তাদের৷ কিন্তু আমরা সব সন্তানেরাই কম-বেশি দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি এই ভেবে ইস, যদি মা-বাবাকে মনের কথাটা সহজেই বলতে পারতাম! মা-বাবা যদি আমাদের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করতেন!
আর এই দীর্ঘশ্বাস বা নিজের জীবনে না-পাওয়ার হতাশা থেকে আজকাল বেশিরভাগ মা-বাবাকেই বলতে শোনা যায়— ‘আমি আমার সন্তানের ভালো বন্ধু হতে চাই। আমি চাই সে আমাকে সব শেয়ার করবে’। অনেককেই আবার এটাও বলতে শোনা যায়—‘ আমার ছেলে/মেয়ে কার সাথে প্রেম করবে, কয়টা প্রেম করবে সে আমাকে সব শেয়ার করতে পারার মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করবো। আমার সন্তান যা হতে চায়, তাই হবে’। কথাগুলো শুনতে কিন্তু বেশ ভালো লাগে এবং সহজ লাগে। মনে হয় আমরা এখনকার মা-বাবারা নিজেদের জীবনে পাওয়া প্যারেন্টিং-এর ধরণে পরিবর্তন আনতে চাই। কিন্তু #সন্তানের_বন্ধু_হওয়া কি এতোটাই সহজ বা হলেও কবে থেকে হতে হয় বা কিভাবে হতে হয় তা কি আমরা জানি? এগুলো নিয়ে আমরা কি কখনো ভাবনা -চিন্তা করেছি? আর শুধু বন্ধু হলেই কি সব সঠিক ও সুন্দর হবে? সন্তানের জন্য মঙ্গলজনক হবে? মা-বাবা হিসেবে আমরা সফল হয়ে যাবো?
আমাদের #সন্তানেরা_আমাদের_স্টুডেন্ট। আর আমরা আমাদের #সন্তানের_শিক্ষক। সম্পর্কের ধরণ, সন্তানের জীবনে আমাদের ভূমিকা আমাদেরকে প্রাকৃতিকভাবেই শিক্ষক হিসেবে বসিয়ে দেয়। তবে অবশ্যই বেত হাতে নিয়ে শাসন করা বা কান ধরে উঠবস করানো শিক্ষক আমরা নই, হওয়া উচিত-ও নয়। আমরা ভালোবেসে হাতে ধরে ধরে যত্ন করে শেখানো শিক্ষক হতে পারি।
সন্তানের সাথে #বন্ধুত্ব_দিয়ে_শুরু_নয়,বরং সেটা আমাদের প্যারেন্টিং এর চূড়ান্ত ধাপ হওয়া উচিত এবং একটা সময় পরে আমরা সেই জায়গায় বা সেই আল্টিমেট গোলে পৌঁছাবো। কারণ, একটা সময় পর্যন্ত যদি আমরা #সঠিকভাবে_প্যারেন্টিং_করতে_পারি তারপর অনেক কারনেই সন্তানের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে। #এটা_স্বয়ংক্রিয়ভাবে_ঘটবে, আপনাকে জোর করে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করতে হবে না। তাই প্যারেন্টিং এক্সপার্টরা বন্ধু হতে গিয়ে আর্লি প্যারেন্টিং- এ মা-বাবার নেতৃত্ব হারিয়ে ফেলতে বা শিথিল করতে নিষেধ করে থাকেন। কারন #আর্লি_প্যারেন্টিং_বন্ধু হওয়ার জন্য #উপযুক্ত_সময়_নয়।
বাচ্চাদের এমন মা-বাবা দরকার যারা ভালো মা-বাবা হতে জানেন এবং এতে ভয় পাননা। কারন কোন বাচ্চাই জন্মের সময় আচার-আচরণ, নীতি-নৈতিকতা, শিখে বা জেনে আসেনা। পৃথিবীতে এসে একটু একটু করে এগুলো শিখে। আর মূলত মা-বাবার কাছ থেকেই শিখে বলে মা-বাবাকে শিক্ষক, লিডার, এবং গাইড বলা হয়ে থাকে। কিন্তু নীতি-নৈতিকতার জায়গাটুকু যদি আপনি বন্ধুর বেশে বা বন্ধুত্বের জায়গা থেকে শেখান তাহলে অনেক কিছুই ত্রুটিপূর্ণ এবং অপূর্ণও থেকে যেতে পারে৷ কারন বন্ধুর কাছ থেকে বেশি উপদেশ, নিয়ন্ত্রণ, কারেকশন কিন্তু আমরা পছন্দ করিনা। একই সাথে বন্ধুর কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকে৷
প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গী নন, আপনি তার বন্ধু নন, আপনি শুধুই মা/বাবা। আপনার সন্তানের জীবনে অনেক বন্ধু হতে পারে বা হবে কিন্ত মা-বাবা শুধু আপনারা এই দুজনেই। কাজেই আপনাদের মধ্যে বাচ্চাকে নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ এবং সঠিক জীবনবোধের শিক্ষা দেয়ার ইচ্ছা ও ক্ষমতা থাকতে হবে।
এখানে বলে রাখা ভালো মা-বাবার কর্তৃত্ব বা নেতৃত্বে শিশুকে শেখানো মানে কিন্তু তাকে মারধর বা বকা দেয়া নয়। অবশ্যই তাকে ভালোবেসে, একজন মানুষের মতো সম্মান দিয়েই শেখানো। মা বাবা শুধু শিশুদের নিয়ন্ত্রণে চলে না গিয়ে শিশুকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেখানোর কথা বলা হচ্ছে। কারন শিশুর নিয়ন্ত্রনে চলে গেলে অনেক দরকারী জিনিসও শেখনো সম্ভব নাও হতে পারে, যেহেতু শিশুরা ফলাফল বা পরিনাম সম্পর্কে জানেনা।
একজন প্যারেন্টিং এক্সপার্ট সন্তানকে প্যারেন্টিং-এর চারটি ধাপ দেখিয়েছেন যেখানে বন্ধুত্ব আসে চতুর্থ মানে সর্বশেষ ধাপে। প্রতিটি ধাপের সাফল্য তার আগের ধাপের উপর নির্ভর করে৷ কাজেই সন্তানের সাথে বন্ধুত্বের স্টেজে যাওয়ার আগেই সফলভাবে প্রথম তিনটি ধাপ পার হতে হবে। প্রথম ধাপ শুরু হয় ২ বছর বয়স থেকে। এই ধাপটি ২ বছর থেকে শুরু হওয়ার কারন হলো ২ বছরের আগ পর্যন্ত একটি শিশু কি পড়বে, কি খাবে, কি পোশাক পরবে এসবই কিন্ত মা-বাবাই একাই ঠিক করেন এবং এই সময়ে শিশুর মতামত দেয়ার বোধ বিশেষ তৈরি হয়না। এবারে ধাপগুলো দেখে নেয়া যাকঃ
এই ধাপের সময়কাল হচ্ছে শিশুর ২ বছর বয়স থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত। এই ধাপের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো মা-বাবা হিসেবে সন্তানের জীবনে নিজের নেতৃত্ব বা কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা৷ এই সময়ে মা-বাবা হিসেবে সন্তানের জীবনে বাউন্ডারী সেট করে দিতে হবে। যে বাউন্ডারীতে স্বাধীনতা আছে তবে তার সীমারেখাও থাকবে। আর সেই সাথে দায়িত্বশীল আচরনবিধিও থাকতে হবে। এই ধাপকে প্যারেন্টিং এর আঁতুর ঘর বলা যেতে পারে৷ এই ধাপে মা-বাবার হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি যেন তারা সুন্দরভাবে শিশুকে প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা দিতে পারেন। যেহেতু এই বয়সী একজন শিশু পুরোপুরি জানেনা তার জন্য কি ভালো আর কি মন্দ! আর যদি আপনার বাচ্চা এই সময়ে আপনার নিয়ন্ত্রনে না থাকে তবে, তাকে তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা পর্যন্ত ট্রেইনিং দেয়া যাবেনা। আর মা-বাবা যদি তা না পারেন তবে পরবর্তীতে আর #কেউই_পারবে_না।
ধরুনঃ এই ধাপে আপনার বাচ্চাটি ইলেকট্রিক প্লাগে হাত দিচ্ছে বা ময়লা মুখে দিচ্ছে, কিন্ত আপনি তাকে একবার দুইবার ফ্রেন্ডলি রিমাইন্ডার দিলে কি সে থেমে যাবে বা তখন থেমে গেলেও পরে আর করবে না তা কি নিশ্চিত? না, মোটেও না। বন্ধু হয়ে নয় বরং মা-বাবা হয়েই এই ধাপগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে তাকে নিরাপদ আর বিপদের তফাত বুঝাতে হবে।
আরেকটু সহজ করে বলতে গেলে এই ধাপে আপনার শিশুটিকে আপনার তৈরি করা ছোট্ট একটি বৃত্তের মধ্যে রেখে আপনি ভালো-মন্দ, প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে নেতৃত্ব দিবেন। বাচ্চার স্বাধীনতার বাউন্ডারী এই বৃত্ত পর্যন্তই। এটা যেন শিশুর কাছে পরিষ্কার থাকে। এবং একই সাথে এটাও আপনাকে বুঝিয়ে দিতে হবে আপনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন তাকে, সে আপনাকে নয়।
এই ধাপের সময়কাল ৭ বছর বয়স থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময়টায় মা-বাবারা সাধারণত বাচ্চাদের কারেকশনের মাধ্যমে শিখিয়ে থাকেন। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কারেকশন করেন। যেমন ধরুনঃ আপনি আপনার বাচ্চাকে ব্যাডমিন্টন খেলা শেখাবেন এবং এই খেলার কিছুই সে জানেনা। এই পর্যায়ে পুরো খেলার নিয়ম-কানুন আপনি তাকে শেখাবেন। খেলা শিখতে গিয়ে সে কখনো পারবে, কখনো পারবেনা। কিন্তু আপনি বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে যাবেন শেষ পর্যন্ত তাকে শেখাতে এবং ভুল হলে সাথেসাথেই সঠিকটা দেখিয়ে দিবেন। সেই সাথে ব্যখ্যা করবেন কোথায় ভুল হলো এবং কেন হলো, এরপর থেকে আরো ভালো খেলতে হলে কি করতে হবে তাকে।
বৃত্তের উদাহরনে যদি আমরা এই ধাপকে ব্যাখ্যা করতে যাই, তবে এই পর্যায়ে বৃত্তটিকে মা-বাবারা আগের ধাপের চেয়ে আয়তনে আরো বড় করবেন। এবার আপনার সন্তান আরো বড় জায়গা পেলো তার স্বাধীনতার সাথে আপনার দেয়া ট্রেইনিং এর সম্পর্ক করতে। কিন্তু এখনো তার সীমা বৃত্ত পর্যন্তই এবং এখনো আপনি তার ট্রেইনার। আপনিই এখনো মূল ভূমিকায়, মূল ক্ষমতায় এবং একই সাথে মূল নিয়ন্ত্রকও বটে।
এই ধাপের সময় ১৩ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে ১৯ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই পর্যায়ে এসে আপনি দেখবেন আপনার সন্তান ব্যাডমিন্টন খেলা শিখে গেছে এবং নিজেই খেলতে পারছে। এখন সে আপনার আগ্রহের চেয়ে বেশি নিজের আগ্রহেই খেলে। আপনি এই পর্যায়ে পাশে থেকে সন্তানকে উৎসাহ দিতে পারেন। আপনার সন্তান নিজেই প্রধান ভূমিকায় থেকে নিজেই নিজের কাজ নিয়ন্ত্রণ করবে, নিজেনিজে সিদ্ধান্ত নিবে কীভাবে এবং কখন, কী করবে। ঠিক যেন একজন মাঠে নেমে পড়া ফুটবল খেলোয়াড়ের মতো—কোচ এর বিশেষ কিছুই করার নেই। সে সাইড লাইনে থেকে হাততালি দিতে পারেন বা মধ্যবিরতিতে ছোটখাটো কোন ভুল ঠিক করে দেয়ার সাথে সাথে আরো ভালো খেলার জন্য কিছু টিপস দিতে পারেন। আপনি যতো ভালো কোচ হবেন, আপনার সন্তান তার জীবনের পরবর্তী ম্যাচগুলো ততো ভালো খেলতে পারবে। কিন্তু এই ধাপের সাফল্য তখনই আসবে যদি আপনি আগের ধাপে #ট্রেইনার_হিসেবে_ভালো দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
বৃত্তের উদাহরনে যদি দেখি, এই ধাপে সন্তানের জন্য দৃশ্যত কোন বৃত্ত আর থাকবে না। সন্তান জানবে তার আর সীমা নেই কিন্তু মা-বাবা ঠিক জানে অদৃশ্য একটা বৃত্ত এখনো আছে। এবং সন্তান যখনই সে বৃত্তকে অতিক্রম করছে তখন মা-বাবা সন্তানকে আবার তার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন, পাশে থাকেন। মোট কথা সন্তানের জীবনে #তখনো_কোচের_ভূমিকায় মা-বাবা থেকেই যান।
এই ধাপে মা-বাবাকে #নিজে_কিছুই_করতে_হয়না। সন্তানের জীবনে তাদের আগের তিনটি ধাপের সফল ভূমিকাই প্রাকৃতিকভাবে তাদেরকে বন্ধুত্বের ধাপে নিয়ে আসে৷ একদিন আপনি হয়তো আপনার সন্তানের সাথে বসে গল্প করছেন, বা একসাথে বসে কফি খাচ্ছেন, হঠাৎ-ই আপনি অনুভব করতে শুরু করবেন যে আপনাদের মধ্যে একটা নতুন সম্পর্ক শুরু হয়ে গেছে এবং তা আর আগের মতো মা-বাবা এবং সন্তানের সম্পর্ক শুধু নয়। সেটা হলো-বন্ধুত্ব। এটাই আপনার #প্যারেন্টিং_এর_মুকুট বা দামী উপহার যার জন্য আপনি এতো-টা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন।
এবং সেই থেকে আপনার সন্তানের সাথে আপনার নতুন করে সহজ, সুন্দর এবং আন্তরিক সম্পর্ক শুরু হবে। আপনারা একে অন্যের হৃদয়ে জায়গা করে নিবেন বন্ধু হিসেবে। প্যারেন্ট হিসেবে আপনি তখন সফল হবেন।
অনেক মা-বাবাই এই প্রক্রিয়ার উল্টোটা করে থাকেন এবং তাতে উনারা না ভালো বন্ধু হতে পারেন, না ভালো মা-বাবা। আগে মা-বাবা হয়ে তারপর বন্ধু হোন। মনে রাখবেন #উপযুক্ত_সময়ের_আগেই একবার বন্ধু হয়ে গেলে, আর মা-বাবা হতে #পারবেন_না।
যদি উত্তাল নদীতে একটি ছোট নৌকাকে মাঝি ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয় তবে নৌকাটি ঢেউয়ের তালে তালে যেকোন দিকে গিয়ে পৌঁছাতে পারে, অথবা মাঝনদীতে ডুবেও যেতে পারে। কিন্তু যদি একজন সাহসী, দক্ষ মাঝি থাকে সেই নৌকায় তবে যতো ঢেউই আসুক, নৌকা নিয়ে মাঝি তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আমাদের বাচ্চারা হলো নৌকা, আমরা মা-বাবারা তারই মাঝি। দক্ষ মাঝি মানেই সুন্দর এবং কাঙ্খিত গন্তব্য।
লেখাঃ শারমিন শামুন