You are currently viewing One claustrophobic plus partially hydrophonic persons short story

One claustrophobic plus partially hydrophonic persons short story

  • Post comments:0 Comments

ঝড়,অন্ধকার,পানি এবং এক claustrophobic plus partially hydrophonic মানুষের অল্প কিছু কথা,কিছু খন্ড খন্ড গল্প

———–

ঘটনা-১ঃ ছোটবেলায় পুকুরে নামানো হয়েছিলো সাঁতার শেখানোর জন্য। বয়স তখন ৭-৮। পানিতে হঠাৎ করে এক ডুব দিয়ে দিলাম।আর ঠিক সেই মূহুর্তের চারপাশের যে শুনশান নীরবতা ছিল, সেটাতে প্রচন্ড রকমের প্যানিক হয়ে গেলাম।সেই শেষ। আর নামা হয়নি পানিতে।আজও সেজন্যে নদী বা সমুদ্রের সুন্দর আমার দূর থেকেই ভালো লাগে। কিন্তু নামতে সাহস পাইনা। আর সেজন্যেই সমুদ্র আমাকে টানে না।

আমার পাহাড় ভালো লাগে। অনেক অনেক উঁচু থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখার খুব শখ।যদিও জানিনা আজকের এই repair হওয়া লিগামেন্ট নিয়ে কতটা সম্ভব হবে 🙄

ঘটনা-২ঃ কোন এক অজানা কারণে ছোটবেলা থেকে বাজ পড়ার শব্দে আমি প্রচন্ড ভয় পাই।যদিও বৃষ্টি আমার অনেক পছন্দের কিন্তু দিন শেষে ভালবাসার বৃষ্টির সাথে আসা এই অযাচিত অতিথিকে আমার একটুও ভালো লাগতো না।আজও লাগেনা। এর পেছনে বন্ধ দরজার পেছনের কাহিনীও কিছুটা দায়ী। গত বছর পর্যন্ত মা সাথে থাকতেন। এবছর social distancing আমাকে অনেকটাই স্বাবলম্বী করে দিয়েছে। আজকের ঝড়ের শো শো শব্দ শুনতে শুনতে দেখলাম এই কয়দিনে অনেকখানি অভ্যাস হয়ে গেছে।

আজ তাই কিছুটা আতংক লাগলেও চিৎকার না করে,কান চেপে ধরে একা বসে থাকতে পারছি নিজের রুমে। জানালা দরজায় বাড়ি দিতে থাকা বাতাসটা ভয় ধরালেও সইতে পারছি।

ঘটনা-৩ঃ অন্ধকার ভয় পাই পিচ্চিকাল থেকেই।রুম totally অন্ধকার রাখা তো দূরের কথা,একটু বেশি-ই আলোর প্রয়োজন হয় সবসময়। সময়ের সাথে সাথে সেটা পরিবর্তন হয়নি। বরং এক অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কারণে বেড়েছে বহুগুণ।

লিফটের ভেতর আটকে গেলে জোরে জোরে দোয়া ইউনুস আর কালিমা পড়তে দেখে আশেপাশের মানুষের অবাক দৃষ্টি আমাকে এতটুকুও বদলাতে পারেনা। আমার নিঃশ্বাস আটকে আসে।

তাই বেশিরভাগ সময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করি। ৯ তলায় উঠতে হলেও!!!

ঘটনা -৪ঃ এই ভীতু আমি জীবনে অনেক বার রক্তদান করেছি। সেই মোটা সুঁই-য়ের ভয় আমার নেই। টেস্ট করাতে গেলে কিংবা ইঞ্জেকশন দিতে গেলে আমি উঁহ শব্দও করিনা।

আমাকে যখন অপারেশন টেবিলে স্পাইনাল ব্লকের জন্যে তিন বার নিডল ঢুকানো হয় আমি এতটুকু আওয়াজ করিনি।

ক্যানুলা করে antibiotic দেওয়ার সময় যখন নার্স বলেছিল একটু জ্বলবে,আমি কিছুই বুঝিনি।

——————

কথাগুলো কেন বলছি?

জানিনা আসলে।

আমি সব ভয়কে জয় করার চেষ্টা করিনি কখনো।

আমি জানি অনেকেই ভয়কে জয় করতে পারেন।

আমি করিনি।

আমি চাই,এই অল্প কিছু ভয় আমার জীবনে থাকুক।

কারণ পানিতে নামা আমার জন্যে জরুরি কিছু না।সুন্দর দূর থেকেও দেখা যায়।সবাই স্পর্শ করবে এমন কোন বাঁধা-ধরা নিয়ম তো নেই!!

আমি অন্ধকারে ভয় পাই।তাই কারেন্ট চলে গেলে জোরে জোরে দোয়া পড়তে থাকি!! হাস্যকর শোনালেও বিষয়টা এমন যে বিপদ মানুষকে আল্লাহর নাম যদি মনে করায়,খারাপ কি!!!

কিংবা ঝড়ের রাতে কানে আঙুল চাপা দিয়ে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম যদি পড়ি,সেটাতেই বা কি ক্ষতি!!

—————— 

কিছুই না। প্রতিটা মানুষ কিছু না কিছু ভয় পায়।

আমি যেটাতে ভয় পাইনা সেটাতে অন্য কেউ।

জীবনে অসম্ভব সাহসী হওয়ার মানে সব ভয়কে জয় করা নয়।

কারণ ভয়টা কখনো কখনো ভালো-র জন্যেও হয়!!

আমি আত্মসম্মানবোধ হারানোর ভয় পাই প্রচন্ড। তাই কখনো সেটা হারাতে দেইনা।

আমি দারিদ্র্যকে যেমন ভয় পাই,তেমনি আতিশয্যকেও।

আমি মিথ্যাকে ভয় পাই,আমি তাই মিথ্যুককেও ভয় পাই। আমি তাই চোগলখোরি পছন্দ করিনা।

আমি বরং সত্যিটাকে ভালবাসি। কঠিনেরে ভালবাসিলাম কবিগুরুর ভাষায়।

সত্য হওয়াটা দোষের না।

আমি অনেক সাহসী নই।বরং আমি ভয়-সাহসের মিশেলের এক সাধারণ মানুষ। 

আর কিছু কিছু ভয়ের সাথে সমঝোতা করে বেঁচে থাকা যায়।এই যেমন অন্ধকার,ঝড় এবং নদী-সাগর!!!

বাকিগুলো নাহয় চেষ্টা করবো জয় করার।

🙂🙂🙂

তাই আমি মনে করি যদি ভয় পান কোনকিছুকে সেটা দোষের না। ভয় থেকে শিক্ষা নিন।

কিছু ভয় আমাদেরকে বুঝাতে সাহায্য করে যে আমরা মানুষ। আমরা অতিমানব নই।

দোয়া রইলো।

ভালো থাকুক আমার মতো ভীতু জীবগুলো।

ভালো থাকুক আমার মতো এমন বেঁচে থাকা প্রাণীগুলো।

By: Dr Nazmun Naher Khan

Leave a Reply