খুব ছোটবেলায় বুঝতে না শেখার বয়সে পাশের বাসার ফার্মাসিউটিক্যালসের দারোয়ান বিকালে খেলতে বের হলে ফ্রকের নীচে হাত ঢুকাতে চেষ্টা করতো, চিতকার করতে করতে দৌড়ে পালাতাম। পালিয়ে আর যাবো কোথায়? বাসাতেই ছিলো গ্রাম থেকে ঢাকায় পড়তে আসা মামা, আরও মামা আবার মাঝে মাঝে ঘুরতে আসা খালুও। সবসময় নিস্তার পাওয়া যেতো না। মামা ডাকলে কোলে নিতে চাইলে না উঠতে চাওয়া তো বেয়াদবি। কেন অমুক খালার বিয়েতে যাবার সময় আমি খালুর কোলে চড়ে যাবো না? দাওয়াতে যাবার গাড়িতে উঠার আগে গালে মায়ের সপাট চড়। এরপরে কলোনিতে এসে পরা। কলোনির ধূলোমাটি মাখা মাঠে, পুকুর পাড়ের নিবিড় ছায়ায়, তীব্র গতিতে মাছ ধরে ফেলা মাছরাঙা পাখির রং এর খেলার বাত্যয় ঘটতো বাড়িতে অতিথি সমাগম হলেই অথবা আরবি পড়াতে হুজুর আসলেই। কলোনির মসজিদে সুললিত কণ্ঠে আজান দেওয়া মুয়াজ্জিনকে টেবিলের নিচ দিয়ে স্কার্টের ভিতরে হাত ঢুকানোর জন্য লাথি মেরেছিলাম। একবার না, একই দিনে কয়েকবার। তার কাছে পড়বোনা স্পষ্ট করে চিতকার করে জানিয়ে দেই এরপরে। আর অসাধারণ অতিথি সেই একই, খালু। অবাক কান্ড হলো, মায়ের তীব্র অপছন্দের অশিক্ষিত বাপের আত্মীয়দের মধ্যে পড়াশুনার স্পর্শ ছিলো না, তাদের মনের মধ্যে ছিলোনা নোংরা ঘিনঘিনে স্পর্শটাও। আমার অশিক্ষিত ভাই বহুদিন পরে বাসায় এসে আমাকে কোলে নিয়ে আদর করলেও কখনো কোন অস্বস্তির স্পর্শ পাইনাই যার নিশ্চয়তা আমার শিক্ষিত মাতৃকুলের আত্মীয়রা অনেক সময়ই দিতে পারতো না।এগুলো নিয়ে পরিবারে কথা হয়নাই তা কিন্তু না। কথা হয়েছে, কিন্তু তাদের আমাদের বাসায় আসা কখনই বন্ধ হয়নাই। বাসার মেয়ের চেয়ে বড়লোক খালু বা মামার দাম সবসময়ই বেশী। তাই না?এইভাবে বেয়াদব নাম পেয়েও নিপীড়ন থেকে রক্ষা কিন্তু পাইনাই। আমাদের ভাই বোন খালাতো বেশ কয়জন। ওদের জানিয়ে দিয়েছিলাম, যেন অন্তত ওরা রক্ষা পায়। এরপরে কারাতে কিড, নেকেড উইপন, এরকম অসংখ্য মুভি দেখে মনে হয়েছে কারাতে শিখি, মার্শাল আর্ট শিখি, কেউ গায়ে হাত দিলে পিটায়া ভর্তা বানায় দিবো। কিন্তু তারপরে মনে হয়েছে আমার বাপ মা কি করসে সারাজীবনে? তারা কেন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনাই? এই পিটায়া পাট পাট করে দেওয়াটা তাদের করার কথা ছিলো না? সেলিনা হোসেনের নিকুন্তিলা পড়ে আমার এই রাগ আরও বাড়সিলো। পরিবার তার শিশুদের নিরাপত্তা দিবে। তা পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে হইলেও দিতে হবে, ব্যস।গ্রোথ বেশী ছিলো তাই সারাজীবন ঢাইকা চলার কথাই শুনসি মাশাল্লাহ, কেউ কখনো কয়নাই যে তুমি তোমার মত চলো বাপু, তোমারে নিরাপত্তা দিবে রাষ্ট্র। কিন্তু এটাই হবার কথা না? মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকুরে বাপ কোনদিন ঘুষ খায়নাই বলে নিজের গাড়ি বাড়িটাও করতে পারেনাই, কিন্তু বছরের পর বছর আয়কর তো ঠিকই দিসে। এখন আমি চাকরি করি, আয়কর দেই। সারাদিন যে মেডিক্যাল এর ছাত্রদের জনগনের টাকায় পড়সে বলে খোটা দেন, জনগণের টাকায় আর কে চলে জানেন? দেশের মন্ত্রীরা চলে, পুলিশ বাহিনি চলে। এখন আমারে কন, রাস্তায়, বাসে, নিজের ঘরে নিরাপত্তা দিতে পারেনা এরা, এখন এরা আমাগো ট্যাক্স ফেরত দিক। না, ভাই, বহুত হইসে, মার্শাল আর্টও শিখবো আমি, হারপিকের সাথে মরিচগুঁড়া মিলায়া পেপার স্প্রে বানাবো আমি, ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ মামলাটাও আমিই করবো, তা ভাই তুমি কি ছিড়তে এইখানে আমার ট্যাক্স খাইতেসো একটু কওনা ভাই? ফাকিং এক্সপ্লেন ইট টু মি রাইট নাও। যে পারে মানববন্ধনে যাক, যে পারুক প্রোফাইল পিকচার কালো করুক, আমার কিছু যায় আসেনা, আপনার কালো না পোষালে আপনি লাল করেন, কে মানা করসে? আমি খালি নিজের দেশে শান্তিতে বাঁচতে চাই। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা জরুরি, যৌন শিক্ষাও জরুরি। বাসার কাজের ছেলে বা দারোয়ানের কাছে হাত মারতে শেখার আগেই নিজের ছেলেমেয়েকে একসাথে নিয়ে বসুন বাবা মা দুইজনই। তাদের শেখান, তাদের শরীরের অংগ প্রত্যংগের নাম, ভ্যাজাইনা-পেনিস, যোনী-লিংগ এই শব্দগুলো উচ্চারণ করুন পরিস্কার ভাবে। অন্য কোন শব্দ দিয়ে এগুলো রিপ্লেস করবেন না দয়া করে। শরীরের কোন অংগে অন্য কেউ হাত দিতে পারবে না শেখান, গুড টাচ- ব্যাড টাচ নিয়ে জ্ঞান দিন। মেয়েদের বুক এমন কেন, পিরিয়ড কি, বাচ্চা কিভাবে হয়, শরীরের লোম কেন উঠে সব ব্যাখ্যা করুন। আপনি না জানলে ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। আপনার বাবা মা এইটা করেনাই? আচ্ছা, আপনি করেন প্লিজ। শারীরবৃত্তীয় কাজের পরিস্কার বর্ণনা যে শিশুরা পরিবার থেকে পায় তাদের আর রসময় গুপ্তের চটি বই পড়ে সেক্স আর যৌনতা শিখা লাগেনা। একদিন দুইদিনের সেল্ফ ডিফেন্স ট্রেনিং এ হবে না কিছুই আসলে। যে বাসে, রাস্তায় ভিড়ের মাঝে মেয়েদের বুক পাছা হাতায় তার ইয়ারস অফ এক্সপেরিয়েন্স কে আপনি দুইদিনের ট্রেনিং এ কিচ্ছু করতে পারবেন না বিশ্বাস করেন। কাউকে মারের বদলে মার দিতে হবে এই চিন্তা মাথায় রেজিস্টার করতে করতেই মলেস্টার আপনাকে ছেড়ে ভীরের আরেকদিকে চলে যাবে। নিজের মনকে বুঝান, নিজের মাথায় ঢুকান যে রিএক্ট করতে হবে, চিতকার দিতে হবে, এলোপাথারি হাত পা চালাতে হবে। গলা তুলুন, জুতা খুলুন, নিপীড়ক ভাইকে হাতে পেলে গান্ধীজির কথায় আরেক বুক পেতে দিবেন না, জুতান মনের সুখ মিটিয়ে, জামার সেফটিপিন পুরোটা হাতে ঢুকিয়ে দিন, অন্ডকোষ বরাবর লাথি মারুন, চোখে আংগুল ঢুকিয়ে দিন। চিতকার করুন প্লিজ। আপা প্লিজ ছেড়ে দেন এই কথা যে বলবে তারেও জুতান। জুতায় মুখ বন্ধ করে দেন। আশেপাশের আপারা, আপনারা এই কাজে সাহায্য করবেন না, বলেন?আর কি করা যায়? একটা কাজ করেন দেখি না কি হয়, আপনার মেয়েরে না, পোলার যখন তখন বাইরে যাওয়া বন্ধ করেন, আশেপাশের বাপ মায়েদেরও কন না। দুইদিন বাইন্দা রাখেন না নিজ নিজ পোলাদের, ঘরে। দেখেন না কেমন লাগে। মেয়েরা মেয়েদের শত্রু – খুব তো চালাইসেন এক প্রবাদ বাক্য দিয়ে বহুবছর। এখন পোলাদের ঘরে আটকান, মেয়েরা রাস্তায় নেমে মনখুলে মেয়েদের সাথে একটু শত্রুতাই নাহয় করুক।
By: Sayka Shahrin