You are currently viewing Whataboutism

Whataboutism

  • Post comments:0 Comments

 গত কয়েকদিন থেকে এই জিনিসটা খুব বাজেভাবে এক্সপ্রেসড হচ্ছে।আগে থেকেই ছিলো কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় অনেক কিছুর ভিড়ে ঢাকা পড়ে যেতো।

কিন্তু এই কোভিড সিচুয়েশনে অনেক বড় ইস্যু হয়ে যাচ্ছে বিষয়টা।

for example,

১.আমরা কয়েকজন মিলে রাস্তার কুকুর বিড়ালদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম মাঝে লকডাউনের সময়।এখনো গ্রুপের ওরা নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও কম ব্যস্ত সময় বা রাতে খাবার দিয়ে আসে।

চাষনী পীরের মাজারের বানরদের খাবার দেয় মাঝে মাঝে।

আমি আমার বাসায় কয়েকটি stray cat এনে রেখেছি।তার মধ্যে বাচ্চাও দিয়েছে কয়েকটা।

এদের একজনের একবার hard palate পুরো কেটে যাওয়ায় অনেক মাস চিকিৎসা করাতে হয়।পরিচিত আপু একজন দেশের বাইরে থেকে টাকা পাঠান।এটা যখন খুশিমনে বন্ধুমহলে বলতে যাই,আমাকে কয়েকজন বলে বসেন,মানুষ খাবার পায়না আবার কুকুর বিড়ালের খাবারের চিন্তা!!

আপনারা কি জানেন আমরা গরীব মানুষকে খাবার দিচ্ছি কি না?? আর আরেকটা বড় কথা হলো জগতের সব সৃষ্টিরই মূল্য আছে আল্লাহ তায়া’লার কাছে। কোন শ্রেণীকে অভুক্ত বা অবহেলায় রাখা তিনি ভালবাসবেন না।

আর সেক্ষেত্রে আপনার যারা এতো চিন্তা করেন,আপনারাই নাহয় করেন সাহায্য!!!

সাধ্যমতো!!!

আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে কি লাভ,বলেন?? আমরা যদি না পড়ি,নিজেই পড়ে যাবেন ধাক্কা দিতে গিয়ে। 🙄🙄

২. আমি একবার জাস্ট দিওয়ালির সময় হাসপাতালের পাশে পটকা ফুটানোর বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে কোরবানির স্থান নির্দিষ্টকরণ না হওয়া নিয়ে মন্তব্য শুনতে হয়েছিলো।অথচ সেই বছর থেকে ভারতেও জোরে আতশবাজি বা পটকা ফুটানো নিষিদ্ধ করছিলো জোরেসোরে।

অথচ কোন ধর্মকে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য ছিলো না।

৩. কয়েকদিন আগে “Thappad” মুভি দেখে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে একটা পোস্ট দেওয়ায় এক বন্ধু মানুষ এসে মন্তব্য করলেন,সব পরিবারে এক না। সুতরাং exception can never be an example!! আমার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে সবাইকে দেখা উচিৎ না!!!

আরে ভাই,আমি আমার ওয়াল এ পোস্ট দিয়েছি।আমার দৃষ্টিভঙ্গী তো আমি কারো উপর চাপিয়ে দেই নি!!!

তাছাড়া বিশ্বব্যাপী আপাতদৃষ্টিতে সুখী পরিবারের ইমেজ নিয়ে চলা মানুষের কত শতাংশ আসলেই সুখী?domestic violence is not an example of exception,it is reality. কিন্তু ভাইজান আমাকে বেশ কয়েকটা কথা শুনালেন।

একই ভাইজান আমাকে একদিন দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলায় বলেছিলেন,”দেশে কে তোমাদেরকে অসম্মান করে!!!!!তোমরা তো কত সম্মানিত!!!! “

I mean এই ধরনের মানুষ নিজেদের বক্তব্য নিজেরা প্রকাশ না করে অন্যের দেয়ালে এসে ছাপ রাখতে চায়। এইটুকুই উনাদের কাজ।

ভাইজানকে আমি unfriend করেছি,ব্লক করিনি।

৪.ভারতে pregnant হাতি মারা যাওয়া নিয়ে পোস্টের counter post হিসেবে আসলো দেশের বাঘমারা এলাকায় কিভাবে বাঘ মারছে মানুষ।

এটা তুলনামূলক পোস্ট হিসেবে না দিয়ে কি এমনিতে লেখা যেত না?

কিংবা অস্ট্রেলিয়ার উট হত্যাকে কি মুসলিম কমিউনিটির সাথে মিলিয়ে না লিখলে হতো না যে “বিষয়টা এজন্যে আলোচিত না কারণ উট আমাদের মুসলমানদের সাথে জড়িত”?

কেন রে ভাই? এসবেও কেন ধর্মকে আনতে হবে টেনে?কেন?

বানর হত্যার ঘটনা পোস্ট করায় বর্ডারে কিভাবে মানুষ হত্যা করা হয় সেটা নিয়ে কথা শুরু হলো!!!! 

কেন রে ভাই? কেন?

৫.এখনকার কোভিড সিচুয়েশনে ডাক্তার মারা যাওয়ার পোস্ট দিলে সেখানে আসে,”কতো মানুষ মারা যাচ্ছে!!! শুধু ডাক্তারদেরটা দেখছেন!!!”

wait wait,এখানে শেষ না আমার কথা।

উল্টোটাও হচ্ছে।

কোন মন্ত্রী, নেতা,কোন ব্যবসায়ী মারা যাওয়া নিয়ে কথা উঠলে (আল্লাহ তায়া’লা সবাইকে বেহেশত নসীব করুন) আমাদের ডাক্তার সমাজের কেউ কেউ বলছেন কত ডাক্তার মারা যাচ্ছে,সেটার খোঁজ নিচ্ছেন???

এমনকি গতকাল ভারতীয় মিডিয়ার একজন সুইসাইড করার সাথেও কোভিডের মৃত্যুতালিকা অনুপাত করা হচ্ছে!!!!

৬.আমি যখন প্রচন্ড রকমের suffer করছিলাম Depressive episode তারপর PTSD এর কারণে,আমাকে কেউ কথা বলাতে গেলে আমি কান্না শুরু করতাম। আমার মনে হতো আমাকে দিয়ে ক্লিনিক্যাল career হবে না। আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। অতীতের শুনে আসা demeaning কথাগুলো কানে আসতো। আর আমি আরো ভেঙ্গে পড়তাম।

সে অন্য কাহিনী।

কিন্তু সেই মূহুর্তগুলোতে আমার মা-কে আমি সব বলতাম।

আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে যখন কিছু বলতাম,অনেকে জাজ করা শুরু করতেন। কেউ বলতেন,দেখো তোমার এটা তো কিচ্ছু না!! কতো মেয়েরা কষ্ট করে সংসার করছে,বাচ্চা আছে সেজন্যে সরতে পারছেনা।তুমি তো অল্পদিন ছিলে!!! কেউ বলতেন দেখো অমুকের বাচ্চা নেই,এতো বছরের সংসার!!! তার কষ্ট ভাবো!!

আমরা সবাই অবচেতন মনে এমনটা হরহামেশা করি।

৭. যখন কেউ এক জায়গায় ত্রাণ নিয়ে গেলো বা সাহায্য করতে গেলো,তখন চলে আসে অন্য এলাকায় কেন গেলো না! আপনি না বলে নিজে নিয়ে যান না রে ভাই!!! কে আটকাইসে আপনারে????

৮. কেউ এই সময় রান্না করছে,শিখছে। ক্রিয়েটিভ কিছু করছে। সেটা নিয়ে ফেসবুকে লিখলে খারাপভাবে আসছে।

আবার কেউ যদি এমনি মজা করেও এটা নিয়ে কিছু লিখে সেখানে তাকে শুনতে হচ্ছে মানুষের ভালো নাকি দেখতে পারেনা!!!!! 

I mean,why????

—————— 

আর উদাহরণ মাথায় আসছে না।

হ্যাঁ, এই সময়টাতে আমরা সবাই অনেক স্ট্রেসে আছি।

কিংবা এমনিতেও থাকি।

আমরা আমাদের স্ট্রেস অন্যের উপর ঝাড়তে পারিনা সেজন্যে।

কিংবা আমরা ভালো আছি (আলহামদুলিল্লাহ)  সেজন্যে এটাও ভেবে নিতে পারিনা যে সবাই ভালো আছে।

কিংবা আমি খারাপ আছি সেজন্যে অন্যের খারাপ থাকাকে ছোট করে দেখতে পারিনা।

কিংবা কোন মৃত্যুকেই ছোট করে দেখতে পারিনা।সে ডাক্তার হোক,অন্য মেডিক্যাল personnel হোক, সে প্রভাবশালী কেউ হোক,কিংবা দুস্থ হোক, সে নায়ক কিংবা ভিখিরি হোক, সে মানুষ কিংবা প্রাণী হোক।

   my point is

 – Every life matters,try to save it. If you can’t, then mourne. Don’t compare.

 -Every happiness matters,cherish it. Don’t judge.

-Every sorrow matters.Try to heal it,if you can’t, then give it time to heal. If you can’t, then just don’t rub salt on it.

-Every smile,every tear is precious. Value them.

Just stop saying “What about this?” “What about that?”

এই হলো কিছু গুরুগম্ভীর কথা।

যারা শেষ পর্যন্ত পড়লেন,অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসুন,আমরা মানুষ হই।

ভালো থাকি,

ভালো রাখি।

By: Dr Nazmun Naher Khan 

Leave a Reply