You are currently viewing Corona’s first-year suicide rate increased by 16 percent

Corona’s first-year suicide rate increased by 16 percent

  • Post comments:0 Comments

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় আর এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের জন্যই করোনাকালে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, করোনার প্রথম বছর আত্মহত্যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বেসরকারি কোনো কোনো সংস্থার মতে এসময়টাতে অন্য সময়ের তুলনায় ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ আত্মহত্যা বেড়েছে। করোনা ইস্যুসহ নানা রকম হতাশা, বিষণ্নতা বেড়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যে। যে কারণে আত্মহত্যাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এ সম্পর্কিত প্রচারণার অভাব ছিল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২০ সালে ১১ হাজার ২৫৯ জন আত্মহত্যা করে। ব্যুরোর এর আগের বছরের হিসাবে অর্থাত্ ২০১৯ সালে ৯ হাজার ৩১০ জন আত্মহত্যা করে। সরকারের হিসাবে করোনাকালে ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ।

এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, স্বাভাবিক সময় যাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায় না বা কম থাকে এসময় তাদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী করোনাকালে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে ছিল। এসময় ৮ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের আত্মহত্যার তথ্য আমাদের কাছে আসে। শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকায় তারা মানসিক চাপে পড়ে।

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১৭ দিনের মাথায় গাইবান্ধার এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে গ্রামের মানুষের উপেক্ষা এবং নিজ পরিবারকে রক্ষা করার কথাই প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। ঐ বছর ১১ জুন অনলাইনে ক্লাস করা নিয়ে বাবা-ছেলের মনোমালিন্যের জের ধরে মা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর প্রকাশ পায়। এরই মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মহত্যা করে। চিকিত্সকদের চিকিত্সা দানে অবহেলার কারণে ক্ষোভে-দুঃখে ঐ নারী আত্মহত্যা করেন বলে খবরে প্রকাশ করা হয়। স্বাভাবিক সময় পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, পড়াশোনা নিয়ে হতাশা, আর্থিক সংকট এমন সব কারণে অনেকে আত্মহত্যা করে থাকেন। করোনাকালে নারী, শিশু, চিকিত্সক, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক সমস্যা তাদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ায় বলে জানান গ্লোবাল হেলথ রিসার্চার ডা. তাসদিক হাসান। তিনি বলেন, পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি আত্মহত্যা করে থাকে। কোভিডের সময় নারী চিকিত্সকদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসময় নারী চিকিত্সকরা ঘরের বাইরে বেশি দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পারিবারিক চাপ ছিল আবার কর্মস্থলে করোনা রোগীর চিকিত্সার দায়িত্বও ছিল। শুরুর দিকে নারী চিকিত্সকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পাওয়া নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা ছিল। তারা কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনারও শিকার হন-এমন তথ্যও আমাদের গবেষণায় পাওয়া যায়।

তরুণদের সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা যায়, করোনাকালে এক বছরে দেশে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে সংগঠনটি জানায়, করোনাকালে ৪৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। চিন্তা রিসার্চ বাংলাদেশ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষণায় দেখা যায়, করোনা ভীতি এবং সামাজিক অবস্থা—এই দুই কারণে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। এই যৌথ গবেষণা কাজের অন্যতম গবেষক মোহাম্মদ এ মামুন ইত্তেফাককে বলেন, তাদের গবেষণায় দেখা যায় করোনার শুরুর সময় করোনাজনিত আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে ৫ শতাংশ। এপ্রিল মাসে অর্থাত্ একমাস পরে এই ঝুঁকি বাড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এপ্রিল-মে মাসে ঝুঁকি বাড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জুলাইয়ে গিয়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে ১৯ শতাংশ। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ-এ আত্মহত্যার প্রবণতা কিছুটা কমে আসে।

আইসিডিডিআরবির মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. কামরুন নাহার কলি ইত্তেফাককে বলেন, করোনাকালে ৪০০ জন নারীকে নিয়ে কাজ করে আমরা দেখেছি, তাদের মধ্যে ৩৫০ জনই স্বামী বা পরিবার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক চাপে আছেন। আর শিশুদের মধ্যে ১০ থেকে ১৮ বছরের ৩৫ শতাংশ শিশু হতাশাগ্রস্ত। ৬০ শতাংশ স্কুলে না যেতে পেরে মানসিক চাপে আছে। ৭৫ শতাংশ শিশুর খাদ্যাভাস এসময় পরিবতির্ত হয়। ৪০ শতাংশ শিশু উদ্বিগ্ন ছিল। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মানসিক চাপ বিষয়টা সব সময় পেছনের সারিতে থাকে। গুরুত্ব পায় না। কিন্তু কাউন্সিলিং করলে হতাশাগ্রস্ত মানুষকে মানসিক চাপ থেকে বের করে আনা সম্ভব। এতে আত্মহত্যাও অনেক কমে আসবে। স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টিকে আমলে নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ। ডিজি হেলথ-এর মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মারফ আহমেদ খান বলেন, ১৯১২ সালে আইন পরিবর্তন করে আমরা যুগোপযোগী মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮ করেছি। কাজ করার জন্য আমরা ২০১৯ সালে নীতিমালাও করেছি, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আমরা করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচারণা করে থাকি, তার পরও বলব আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

https://www.ittefaq.com.bd/print-edition/first-page/274183/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%AD-%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B6

Leave a Reply