বর্তমান সমসাময়িককালে করোনা ভাইরাসের পরে আরেকটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক অবনতি যার কারণে অনেক মানুষ – ই নিরুপায় হয়ে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ!
কোভিড-১৯ এ কেন মানুষ নিরুপায় হয়ে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে জেনে নেই তার পিছনের অন্তর্নিহিত কিছু কারণ :
১. সামাজিক দূরত্ব স্থাপন এবং আইসোলেশন :
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্ব আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক সংযোগের অভাব ধূমপানের মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। করোনাভাইরাস রোধের ফলে সৃষ্ট সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা নিসঙ্গতা উল্লেখযোগ্যভাবে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, এবং এই ঝুঁকির মাত্রা অনেক শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য সূচকের চেয়ে বেশি।
২. অর্থনৈতিক চাপ :
সরকারি তথ্য অনুসারে প্যানডেমিক শুরুর দিক থেকে এখন পর্যন্ত আরও অনেকেই চাকরি হারাতে পারেন এবং অনেক স্ব-নিযুক্ত কর্মী ও সদ্য পাশ করা গ্রাজুয়েট বেকার যারা আছেন তাদের এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ অবস্থায় অনেকেই ঋণ গ্রহণ করে থাকছেন যা একটি বিশাল মানসিক বোঝা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অনিতা গোপীনাথ তার ব্লগে লিখেছেন, “মহামারী সংকট থেকে ২০২০ এবং ২০২১ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপির সমষ্টিগত ক্ষতি প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলার যা জাপান ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতির চেয়েও বেশি হতে পারে।”
৩. মানসিক স্বাস্থ্যসেবাতে বাধা :
করোনা পরিস্থিতিতে ইনডোর, আউটডোর এবং প্রাইভেট চেম্বার সহ বিভিন্ন ভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উপায় সমূহ ব্যহত থাকায়, অনেকেই সেবামূলক সার্ভিস নিতে যেতে পারেননি। আবার অনেকের কাছেই মোবাইল, ল্যাপটপ বা ইন্টারনেটের এক্সেস না থাকায় তারা অনলাইন সেবা ও নিতে পারছেন না।
৪. এডিশনাল ঝুঁকির উত্তেজক :
এটাও সম্ভব যে এই কভিড সম্পর্কিত ইভেন্টগুলির 24/7 সংবাদ কভারেজ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে এমন ব্যক্তিদের জন্য যাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বিদ্যমান।
আমাদের রুটিন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং এমনকি মাস্ক পরা বা মুদি দোকানে লাইনে অপেক্ষা করার মতো জিনিসগুলি ও আপনাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজিত করতে পারে।
৫. পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস :
এটি মূলত দেখা যায় ডক্টর, নার্স ,ওয়ার্ড বয়, অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের মধ্যে। তারা তাদের নিজের স্বাস্থ্য, তাদের পরিবারের সংস্পর্শে আসা অসুস্থ সহকর্মী, পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকা এবং রোগীদের জন্য তারা যথেষ্ট কিছু করছে না বলে চিন্তিত।
এছাড়াও ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগী অথবা তাদের পরিবারবর্গের মধ্যেও এ ধরনের স্ট্রেস দেখা যায়।
Written by
Arny Majumder
Associate, WSIF