আমাদের মাঝে অনেকেই ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে খাওয়া একদম বন্ধ করে দেন, আবার অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যা আমাদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ একজন ব্যক্তি যখন প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি অথবা অনেক কম খাবার খেতে থাকেন যা মনের অজান্তে একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, সেটাই হলো ইটিং ডিজঅর্ডার।
ইটিং ডিজঅর্ডার মূলত দুই ধরনের হয়ঃ
১। এনোরেক্সিয়া নারভোসা (খাবার খাওয়া একদম কমিয়ে দেয়া এবং যে কোন ভাবেই হোক ওজন কমানোর জন্য চেষ্টা করা)
২। বুলিমিয়া নারভোসা (প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এবং নিজের খাবার গ্রহণ এর কোন ট্র্যাক রাখতে না পারা)
ইটিং ডিজঅর্ডার এর যেকোন ধরনই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আজ মূলত এনোরেক্সিয়া নারভোসা নিয়ে ই কথা বলবোI এনোরেক্সিয়া নারভোসা এর কিছু লক্ষণ হলোঃ
১। পরিমানের তুলনায় অনেক কম খাওয়া বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা।
২। অনেক বেশি পরিমান খাবার খেয়ে ফেললে পরে ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা যা স্বাভাবিক জীবনকে ব্যহত করে।
৩। বয়ঃসন্ধিকালে এ সমস্যা হলে অনেক বাচ্চারাই খাবার ফেলে দেয় বা লুকিয়ে ফেলে।
এধরণের সমস্যায় আমাদের শরীরে জটিলতাগুলো তৈরী হয়ঃ
১। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের সব সিস্টেমের উপরে প্রভাব পড়ে এবং যেটা পরবর্তীতে লিভার, কিডনি, হার্ট এসব অর্গান এর সমস্যা করে।
২৷ খাদ্য পরিপাকে সমস্যা হয় আর গ্যাস্ট্রিক আলসার হতে পারে।
৩। না খেয়ে থাকার কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া অথবা মনোযোগের সমস্যা হয়।
৪। খাবার বমি করে দেয়ার কারণে খাদ্যনালী এর আলসার এবং পরবর্তীতে ওখানে আরো জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং এই কারণে চাইলেও পরে এনোরেক্সিয়া নারভোসাতে ভুগছে এমন ব্যাক্তি আর খাবার খেতে পারেন না।
এখন আমরা জানবো কিভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে এ সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবঃ
১। নিয়মিত খাবারের একটি তালিকা মেইনটেইন করা।
২। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো
৩। অতিরিক্ত ওজনের কারণে বুলিং এর শিকার হলে অবশ্যই পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে শেয়ার করা।
৪। একই সমস্যায় ভুগছে এমন মানুষ খুঁজে বের করা এবং সাপোর্ট নেয়া।
৫। ওজন যদি কমাতেই হয় একজন পুষ্টিবিদ এর কাছ থেকে সঠিক ডায়েটপ্ল্যান নিয়ে সেটি অনুযায়ী খাদ্যগ্রহন করা৷
৬। সেল্ফ কেয়ার করা ও নিজেকে ভালোবাসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেসব কাজ করলে মানসিকভাবে ভালোবোধ হয় সেসব কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
৭। নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম করা।
৮। এ ধরণের সমস্যায় অবশ্যই একজন প্রফেশনাল এর কাছ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কাউন্সেলিং নেয়া উচিৎ যা নিজের কনফিডেন্স বাড়ানো ও নিজের প্রতি নিজের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ব্যালেন্সড ডায়েট প্রয়োজন, যেকোন কিছুতেই ট্রিগার হয়ে বা বুলিং এর শিকার হয়ে আমরা যেনো নিজের ক্ষতি না করে ফেলি। আপনাদের এ ধরণের কিছু অভিজ্ঞতা থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন এবং আমাদের পেইজে ইনবক্স করতে পারেন।