সাধারণত নারীদের ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সটিকে মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের সময় বলে ধরা হয়। এই সময়ে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক নিয়মেই ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ কমে আসে। পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নানা রকম উপসর্গও দেখা দেয়।
শারীরিক উপসর্গগুলোর মধ্যে আছেঃ
১. ক্লান্তি
২.ঘুমের সমস্যা
৩. গলা এবং মুখে হঠাৎ ভীষণ গরম অনুভব করা।
৪. অতিরিক্ত ঘাম
শারীরিক উপসর্গের পাশাপাশি মানসিক উপসর্গগুলিও হেলাফেলা করার মত নয়। মানসিক উপসর্গগুলি হলঃ
১. ভুলে যাওয়ার প্রবণতা
২. অল্পতেই রেগে যাওয়া
৩. বিষন্নতা
৪. কাজে উৎসাহ কমে যাওয়া
৫. মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা ইত্যাদি।
আকস্মিক এই পরিবর্তনগুলো মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। যার সাথে মানিয়ে নেয়া অনেকের জন্যেই কষ্টকর হয়ে যায়। আবার কারো যদি পূর্বে কোনো মানসিক রোগ থেকে থাকে, সেটাও এ সময়ে নতুন করে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই সময়ে কিছু টিপস মেনে চললে কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। যেমন-
১। হালকা ব্যায়াম করা
২। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট নেয়া
৩। পর্যাপ্ত বিশ্রাম
৪। মন ভাল রাখতে পুরনো বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ
৫। যে কোনো শখের কাজে সময় দেয়া
৬। শারীরিক উপসর্গগুলো দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করার মত হয় সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেয়া
এ সময়টায় অধিকাংশ নারীই আনুষঙ্গিক নানা পরিবর্তনের মুখোমুখি হন। যেমনঃ একাডেমিক বা পেশাগত প্রয়োজনে সন্তানরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের মৃত্যু, দাম্পত্য সম্পর্কের পরিবর্তন আর পেশার ক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব ইত্যাদি। সব কিছু একত্রে সামাল দেয়া আসলেই কষ্টকর। তাই, পরিবারের অন্য সবার সহনশীল ও সংবেদনশীল হওয়া খুব জরুরি। আর উপরের নিয়ম গুলো মেনে চললে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকবে।