আমরা ভুলে যাই কেন? (Why do we forget)
অনেক সময় আমরা অনেক জরুরী জিনিস ভুলে যাই। যেমনঃ চাবি কোথায় রেখেছেন মনে করতে না পারা, পরিক্ষার খাতায় লিখতে গিয়ে দেখলেন উত্তরের প্রথম লাইনই মনে করতে পারছেন না, বা খুব পরিচিত একজনের সাথে দেখা কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছেন না তার নামটা। এমনটা হলে বুঝতে হবে আপনার ভুলে জাওার প্রবণতা আছে, অনেকে এই ভুলে যাওয়াকে ডিমেনশিয়া মনে করে, কিন্তু ভুলে যাওয়ার সমস্যা মানেই ডিমেনশিয়া নয়। সাধারনত আমাদের সবার মাঝেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কম-বেশি বিদ্যমান। এটা কখন সমস্যা আর কখন সমস্যা নয় তা নির্ভর করে, আপনার জীবনে এটার প্রভাব কেমন তার উপর।
চলুন জানা যাক ভুলে যাওয়াটা কি, কেনই বা আমরা ভুলে যাই এবং এর কারণগুলো কি।
ভুলে যাওয়া কি?
ভুলে যাওয়া বলতে বোঝায় বর্তমান সময়ে অর্থাৎ এই মুহূর্তে সচেতনভাবে পূর্বের কোন তথ্য বা স্মৃতি মনে করতে না পারা। এই ভুলে যাওয়া বা মনে করার ক্ষেত্রে দুইটি শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ – Recall এবং Retain । যদি পুরো বিষয়টি মনে করতে পারি সেটি Recall আর যদি আংশিক অংশ মনে করতে পারি তা হল Retain ।
আমরা কেন ভুলে যাই?
এ বিষয়ে অনেকের অনেক মতামত আছে, অনেক গবেষণাও আছে তবে আমরা এত জটিলতার দিকে না গিয়ে সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করব। যে কারণগুলো আমাদের ভুলে যাওয়ার পেছনে দায়ীঃ
১) মনোবিদরা মনে করেন, আমরা আসলে সে জিনিসটা ভুলে যাই, যে জিনিস বা তথ্য আমরা মনে রাখার চেষ্টাই করি না। এই বিষয়টা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের সাথে তুলনা করা যায় – আমরা যদি কন কিছু হার্ডডিস্কে না রাখি তাহলে পরবর্তীতে আমরা খুঁজলে কি সেটা পাব? তেমনিভাবে আমরা যে বিষয়টি মস্তিস্কে রাখিনি তা আমরা কিভাবে মনে করব।
২) আমরা অনেক সময় এক সাথে multi-tasking করি বা একাধিক বিষয় একসাথে মনে রাখার চেষ্টা করি, ফলে কি হয় একটু আগে যা করছিলাম একটু পর তা আর মনে করতে পারি না – এর কারণ একটি তথ্য আরেকটি তথ্য মনে করতে বাঁধা সৃষ্টি করে। আবার অনেক কাজের প্রেশার বা চাপ একসাথে নিলেও আমরা ভুলে যাই।
৩) অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, হতাশা থাক্লেও অনেক সময় অনেক কিছু আমরা ভুলে যাই। ভুলে যাওয়া ডিপ্রেশনের একটি লক্ষণ হিসেবে কাজ করে।
৪) ঘুম মানুষের একটি অন্যতম উপাদান। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের যে পরিমাণ ঘুমানো দরকার, তার কম ঘুম হলে ভুলে যাওয়া সৃষ্টি হয়।
৫) বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকের মাঝে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে এবং এ ধরণের প্রবণতা অনেক সময় ডিমেনশিয়া সৃষ্টি করে।
৬) কোন কারণে মস্তিস্কে কন আঘাত লাগলে বা মানসিক কোন আঘাত পেলে এবং তার পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হলেও ভুলে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
৭) বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও ভুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। যেমনঃ দিনের পর দিন স্নায়ুবিক বা ঘুমের ওষুধ খেলেও ভুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৮) খাদ্যাভ্যাস মেমোরি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত ভিটামিনের অভাবে এবং চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রকট হতে পারে।
৯) বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমনঃ হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের কারণে ভুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
১০) ভুলে যাওয়ার সমস্যা অনেক সময় বংশগত হতে পারে। অর্থাৎ জিনগতভাবে অনেক সময় ভুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
ভুলে যাওয়া থেকে মুক্তির উপায়ঃ
আমরা শত চেষ্টা করলেও সবকিছু মনে রাখতে পারব না, তা সম্ভবও নয়। আমাদের মস্তিস্ক সেই বিষয়গুলো মনে রাখে, যেগুলো মনে রাখার প্রয়োজনীয়তা সে মনে করে। তবে এই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যেন আমরা ভুলে না যাই এবং যথাসময়ে মনে রাখতে পারি সেজন্য কিছু কৌশল অনুশীলন করা যেতে পারে বা অভ্যাস গঠন করা যেতে পারে –
ছোট ছোট নোট রাখা
মস্তিস্কের ব্যায়াম করা বা মাইন্ড গেইম খেলা
নিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইল
শারীরিক ব্যায়াম করা
রিলাকজেশন
যথাযথ অনুশীলন
শরীরের ক্ষতি করে এমন অভ্যাস ত্যাগ করা
চলুন এই ব্যাপারগুলো মেনে চলি আর আমাদের আশেপাশের যারা এই সমস্যায় ভুগছেন তাদের সাহায্য করি।