কমবেশি সবার ই দীর্ঘসূত্রিতার সম্মুখীন হতে হয়, যখন আমরা হাতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সাথে সাথে না করে সময় নিতে থাকি। এতে করে কাজটায় দেরী হয়ে যায়। পরে আমরা হা-হুতাশ করি সঠিক সময়ে কাজটা না করার জন্য। কিন্ত অনেক সময় চাইলেও কাজ সময়মতো করা যায় না। এজন্য আমাদের বের করতে হবে যে আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি দীর্ঘসুত্রিতা করছি কাজ। এজন্য তিনটি প্রশ্ন করতে হবে নিজেকে।
কোন কোন কাজে আপনি দীর্ঘসুত্রিতা করছেন?
একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখুন কোন কাজ গুলোর জন্য আপনার ব্রেইন আপনাকে বাধা দিচ্ছে না করার জন্য। অনেকের ক্ষেত্রে লেখালেখি বা ঘর গোছানোর সময় এমন হয়। তাই আপনাকে বের করতে হবে কি কি কাজ আসলে আপনার ব্রেইন অজুহাত খুজতে থাকে আর কাজে দেরী করতে থাকে। অনেকের আবার সব কাজেই দীর্ঘসুত্রিতা হয়ঃ অফিসের কাজে, বাসার কাজে, নিজের যত্নে, বিল/ ভাড়া দেয়ার জন্যে ইত্যাদি।
কেন দীর্ঘসুত্রিতা হচ্ছে?
হতে পারে এই কাজটা করতে আপনার ভয় লাগে। কেমন অনুভূতি হচ্ছে এগুলা লিস্ট করুন। হতে পারে আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব, নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান, বা যাদের সাথে কাজ করতে হবে তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ দেখে কাজটা এড়িয়ে চলছেন, বা কাজ সম্পর্কে আপনার ধারনা কম দেখে আপনার মনে ভয় কাজ করছে। আবার কাজটাকে আপনি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন না/মোটিভেশন পাচ্ছেন না/কাজে আগ্রহ নাই। যে কারণই হোক তা লিস্ট করুন।
কিভাবে আপনি দীর্ঘসুত্রিতা করছেন?
কিভাবে আপনার সময় ব্যয় করছেন? আপনাকে ট্র্যাক করতে হবে প্রতিটা কাজে আপনার ব্যয় করা সময়। আপনার কি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় যাচ্ছে? নাকি অযথা বারবার সোশ্যাল মিডিয়া, ফোন, ইমেইল এসব চেক করে আপনার মনকে ব্যস্ত রাখছেন? সব লিস্ট করুন একে একে এবং বের করুন আপনার সময়খাদকদের!
What, Why and How? এই তিনটা প্রশ্ন আপনার নিজেকে করতে হবে দীর্ঘসুত্রিতার সমস্যাকে দূর করতে।
দীর্ঘসূত্রিতা রোধে কিছু গুরূত্বপূর্ণ উপায়!!!
১| অনুভূতির উপর ফোকাস করা বন্ধ করুন, পরবর্তী কর্ম সম্পর্কে চিন্তা করুন। খারাপ সময় ব্যবস্থাপনা বলে কিছু নেই, বরং এটি আবেগগত ব্যাপার। সত্যি বলতে কি আপনি ভবিষ্যতে যা করতে চান তা শুরু করার উপযুক্ত সময় হল ‘এখনই’।
২| এমনকি যদি এটি একটি অত্যন্ত ছোট কাজ হয়, সামান্য অগ্রগতি আপনাকে কাজ করতে সাহায্য করবে, কাজ সম্পর্কে আরও ভাল বোধ করবে এবং কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য আপনার আত্মসম্মান বৃদ্ধি করবে৷ উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কিছু লিখতে চাচ্ছেন, শুধুমাত্র সেই অনুলিপিটি খুলুন এবং কিছু লিখুন, এমনকি যদি এটি শুধুমাত্র তারিখও হয় না কেন, তাও লিখুন।
৩| অতীতে বিলম্বিত হওয়ার জন্য নিজেকে ক্ষমা করুন। আমরা বারবার বিলম্বিত করার সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি হল আমরা এটি সম্পর্কে চিন্তা করি।
৪| ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। কেউ একদিনে বাড়ি তৈরি করে না, তারা পরিকল্পনা করে প্রতিদিন এখানে-সেখানে ইট রাখা শুরু করে এবং কয়েকদিন পর এটি একটি বাড়ির আকার নেয়, তাই না?
Procrastination একটি বড় সমস্যা যা আমাদেরকে অনেকাংশে পিছিয়ে দেয় একাডেমিক বা প্রফেশনাল ভাবে। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও এর বিরূপপ্রভাব রয়েছে। তাই চলুন কিভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা যায় তার ব্যবস্থা নেই।