আমরা অনেকেই অটিজম শব্দটা শুনেছি কিন্তু এর সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই। তাই দেখা যায় পরিবারের কারো অটিজম থাকলে আমরা বুঝতে পারি না আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তাই চলুন জেনে নেই :
- অটিজম আসলে কী?
- এর লক্ষণসমূহ কী? কেন হয়?
- আর হলে কী করনীয়?
অটিজম: এটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা। মাতৃগর্ভে থাকাকালে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হলে শিশু অটিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং শিশুর ভাষার বিকাশ, সামাজিক আচরণ, ইন্দ্রিয়গত সমন্বয়ের সমস্যা, আচরণের দৃঢ়তা ও কল্পনাশক্তির সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। শিশু এই রোগটি নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। তবে জন্মপরবর্তী তিন বছরের মধ্যে রোগটির সব লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়ার পর এক থেকে দেড় বছর বয়স পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণই বোঝা যায় না। সামান্য ভাষার বিকাশও হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুই বছরের পর থেকে ভাষার বিকাশ কমতে থাকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থবহ কোনো ভাষাই আর থাকে না। অস্থিরতা, আচরণগত সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কখনোই ভাষার বিকাশ হয় না, একই ধরনের আচরণ বারবার করতে থাকে, নাম ধরে ডাকলে তাকায় না, ঘুম ও খাওয়ার সমস্যা ইত্যাদি দেখা যায়।
আটটি লক্ষণ:
১) মৌখিক যোগাযোগে সমস্যা
যদি আপনার বাচ্চার মৌখিক সমস্যা লক্ষ্য করেন, তাহলে কোনো প্রফেশনাল বা অটিজম বিশেষজ্ঞ দ্বারা মূল্যায়ন করানো উচিত। অটিজমের সম্ভাব্য মৌখিক উপসর্গ হচ্ছে: ১২ মাসের মধ্যে কোনো অস্ফুটবাক্য বা আধ-আধ বুলি না বলা অথবা কোনো কিছু নির্দেশ করার মতো অঙ্গভঙ্গি না করা, ১৬ মাসের মধ্যে কোনো শব্দ না বলা অথবা ২৪ মাসের মধ্যে কোনো অর্থবোধক দুই শব্দের শব্দগুচ্ছ না বলা।
২) সামাজিক পারস্পরিকতায় সমস্যা
অটিজম স্পিকসের মেডিক্যাল রিসার্চের প্রধান এবং মেডিক্যাল ডাক্তার পল ওয়াং বলেন, ‘সুস্থ বাচ্চারা হাসি, আলিঙ্গন অথবা সজ্ঞান দৃষ্টিপাত শেয়ার করে অন্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ করে।’ যদি আপনি ছয় মাসের মধ্যে আপনার বাচ্চার মুখে বড় হাসি অথবা অন্যান্য আনন্দদায়ক অনুভূতি না দেখেন, তাহলে এটি অটিজমের একটি উপসর্গ হতে পারে। অনুরূপভাবে, যদি আপনার বাচ্চা নয় মাসের মধ্যে শব্দ, হাসি অথবা অন্যান্য মৌখিক অভিব্যক্তি অনুকরণ না করে, তাহলে কোনো প্রফেশনাল বা অটিজম বিশেষজ্ঞকে দেখান। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের পক্ষে চোখের যোগাযোগ রক্ষা করাও দুরূহ, যা অন্য লোকদের মৌখিক অভিব্যক্তি পড়া বা বোঝায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অটিজম ফ্রেন্ডলি স্পেসেসের অটিজম বিশেষজ্ঞ ডানা ওয়াটেনবার্গ খানি বলেন, ‘অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু অন্যদের প্রতি আগ্রহ দেখায় না বললেই চলে, বরং তারা কোনো বস্তু বা অবজেক্টের প্রতি অধিক আগ্রহ প্রকাশ করে।’ উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে কোনো বলের ছবি দেখান অথবা কোনো বল দেন, সে আপনার সঙ্গে আই কনটাক্ট না করে বলের ছবি বা বলের প্রতি অধিক আগ্রহ দেখাবে। সে একাকী খেলতে চাইবে, কারণ তার পক্ষে অন্যদের সঙ্গে মেশা কঠিন।
৩) সামাজিক দক্ষতা হ্রাস
গবেষণা অনুসারে, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছেলেমেয়েদের কমন একটি উপসর্গ হচ্ছে, কথাবার্তা কম বলা সামাজিক দক্ষতা হ্রাস। ডা. ওয়াং বলেন, ‘অসুস্থ বা মর্মাহত কোনো শিশু কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ বা কথাবার্তা কমিয়ে দিতে পারে, কিন্তু তা কয়েকদিনের বেশি হলে অটিজম বিশেষজ্ঞকে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। অটিজম গবেষক জেনিফার রিকলার স্লেটডটকমে লিখেন, ‘অটিজমে আক্রান্ত এক-তৃতীয়াংশ শিশু কয়েক রকম অদক্ষতার সম্মুখীন হয়, এ ধরনের বেশিরভাগ শিশুর শুরু থেকেই সাধারণ অগ্রগতি হয় না।’ তিনি যোগ করেন, ‘তাদের অগ্রগতি বিলম্ব হয় এবং তারা তাদের অর্জিত কিছু দক্ষতা হারায়।’
৪) পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ
অটিজম স্পিকস অনুসারে, ‘হাত-ঝাপটানো, এপাশ-ওপাশ করা, লাফানো, পাক খাওয়া, বস্তু বা অবজেক্টকে সাজানো ও পুনর্বিন্যস্ত করা এবং কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বারবার বলা- এসব পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ হচ্ছে, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।’
৫) তীব্র আসক্তি
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুরা উদ্দেশ্যহীনভাবে কোনো অর্ডারে বা কোনোকিছুতে তীব্র আসক্ত হতে পারে। তারা খেলার সময় খেলনা নিয়ে খেলার পরিবর্তে খেলনা সাজানোতে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করতে পারে এবং রঙ বা আকারের ভিত্তিতে খেলনার শ্রেণীবিভাজন করতে পারে। খানি উল্লেখ করেন, ‘অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু ট্রেন খেলার দিকে ঝুঁকে পড়ে। তারা কোনো কাল্পনিক রেললাইন দিয়ে অনুমেয় শিডিউলে ছুটতে থাকে।’ রুটিন ব্যতয় হলে তারা দুর্বার ক্রোধে ফেটে পড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টারের নিউরোডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল পিডিয়াট্রিকসের অধ্যাপক ট্রিস্ট্রাম এইচ. স্মিথ এটিটিএন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজকর্মের সাধারণ পথ থেকে বিচ্যুত হলে সামান্য অস্বস্তি বোধ করি, কিন্তু এর জন্য তারা খুব ভেঙে পড়লে বা ক্রোধে উন্মত্ত হলে তা অটিজমের একটি উপসর্গ হতে পারে।’ শিডিউলের পরিবর্তনে তাদের আচরণ অস্বাভাবিক রকমের ক্রোধ প্রকাশ পেতে পারে। শিডিউল পরিবর্তন জনিত কারণে উদ্বিগ্ন হলে তারা পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করতে পারে, যেমন- এদিক-ওদিক পায়চারি করা অথবা নিজেদের হাত কচলানো।
৬) কোনো কিছুতে অতিরিক্ত কৌতুহল
অটিজম স্পিকস অনুসারে, কোনো অস্বাভাবিক বিষয়ে তীব্র কৌতুহল এবং গভীর জ্ঞানও অটিজমের উপসর্গ হতে পারে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের ফ্যান, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার অথবা টয়লেটের প্রতি অবসেশন থাকতে পারে এবং জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান থাকতে পারে। অটিজমে আক্রান্ত লোকদের সংখ্যা, প্রতীক, তারিখ অথবা বিজ্ঞান বিষয়ে অবসেশন বিকশিত হতে পারে।
৭) কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে বুঝা
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে ভোগা লোকেরা কোনো বিষয় বা শব্দগুচ্ছকে আক্ষরিক অর্থে বুঝতে পারে, যেমন- ‘আমাকে একটা পেপার ক্লিপ ছুঁড়ে মার’ বললে তারা আপনার মাথা বরাবর পেপার ক্লিপ ছুঁড়ে মারতে পারে, অথবা ‘এখন বসো’ বললে তারা কোথায় বসবে তা জিজ্ঞেস করতে পারে।
৮) সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য সমস্যা
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত লোকদের এ ব্যাধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য সমস্যা থাকতে পারে। অটিজম স্পিকস অনুসারে, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের সঙ্গে পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগ, মৃগীরোগ, ঘুমের ব্যাঘাত, শারীরিক অনুভূতির সমস্যা এবং খাবার নয় এমন জিনিস খাওয়ার প্রবণতা জড়িত থাকতে পারে।
কারণ ও করণীয়:
- একটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীব্যাপী ছেলে শিশুরাই অটিজমে বেশি আক্রান্ত হয়। এই অনুপাত ৫:১, অর্থাৎ ছয়টি শিশুর মধ্যে পাঁচটি ছেলে শিশু ও একটি মেয়ে শিশু সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত হয়। এখনো এর কোনো কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। খুবই চিন্তার বিষয় যে এখন পর্যন্ত অটিজমের একক কোনো কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো বিশেষ ধরনের চিকিৎসায় অটিজম নিরাময়যোগ্য- এটি কেউই দাবি করতে পারছে না। তবে আশার বিষয় হচ্ছে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও থেরাপির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুরা অনেকটা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। অটিজম কখনোই ভালো হয়ে যায় না। তবে এ ধরনের মানুষ বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকে। এ কারণে অন্য সমস্যাগুলোর ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পৃথিবীকে দেওয়ার মতো অনেক দক্ষতাই তাদের আছে।
- এখন পর্যন্ত পৃথিবীকে আবিষ্কার, তথ্য, খেলা, শিল্প, সাহিত্য ও গবেষণায় যাঁরা পরিবর্তনের ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের প্রায় ৪০ শতাংশই অটিজম, Asperger’s syndrome অথবা ADHD-এ আক্রান্ত ছিলেন। আইনস্টাইন, নিউটন, বিল গেটস, মোৎসার্ট, বেটোফেন, উডি অ্যালেন, সুজান বয়েল প্রমুখ অটিজম, Asperger’s syndrome ও ADHD-এ আক্রান্ত। তাই পরিবার যখন জানতে পারে তাদের শিশুটি অটিস্টিক, হতাশ না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে তার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা উচিত। দ্রুত অটিজম বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর কথা বলা নিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত থাকেন। কিন্তু ভাষার বিকাশের জন্য শিশুর পূর্বদক্ষতা প্রয়োজন। যেমন- মনোযোগ, চোখের দিকে তাকানো, খেলার দক্ষতা, Motor Planning দক্ষতা, ইন্দ্রিয়গত সমন্বয়, সর্বোপরি অনুকরণের দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে এই দক্ষতাগুলোর ঘাটতি থাকে বলেই সামাজিক আচরণ, যোগাযোগ ও কল্পনাশক্তিতে ঘাটতি দেখা যায়। আমাদের জানা থাকা দরকার, প্রায় ২২টির মতো নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজ-অর্ডার আছে, যেগুলোর লক্ষণ প্রায় অটিজমের মতো। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।
- তাই বেশি বেশি কথা বললে বা সাধারণ বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে দিলেই এ সমস্যার উন্নতি হবে- এটি ভুল ধারণা। খুব ছোটবেলা থেকে উপযুক্ত সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন থেরাপি, যোগাযোগ প্রশিক্ষণ, সামাজিক আচরণ প্রশিক্ষণ, প্রি-একাডেমিক প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি পরিবারের ধৈর্য ও গ্রহণযোগ্যতা শিশুর ভবিষ্যৎ পথ সুগম করে। এই সেবাগুলো পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিশেষায়িত স্কুলের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে আমাদের দেশের গতানুগতিক স্পেশাল স্কুল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও বিশেষ শিশুর পরিবারের কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।
- মনে করা হয়, স্পেশাল স্কুল ডে কেয়ার সেন্টারের ভূমিকা পালন করে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, স্পেশাল স্কুলে দিলে বাচ্চার অবস্থা আরো খারাপ হবে, অন্য বাচ্চাদের দেখে অস্বাভাবিক আচরণ শিখবে; অথবা এ ধরনের স্কুলে দিলে বাচ্চা আর কখনোই সাধারণ স্কুলে যেতে পারবে না ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে স্পেশাল স্কুলের দায়িত্বই হচ্ছে অটিস্টিক শিশুকে Assessment করে তার লেভেল নির্ধারণ করে ইনডিভিজুয়াল এডুকেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া, প্রতিটি ধাপে পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বাসায় ও স্কুলে একই ধারায় কাজ করা। অন্যথায় ভাষা শিক্ষা বা প্রাত্যহিক কাজের দক্ষতা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে।
- সব শিশুই যে সমানভাবে সব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়। অবশ্যই অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষণপদ্ধতি ও শিক্ষার উপকরণ ভিন্ন এবং এগুলো সহজলভ্য নয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এই শিক্ষা উপকরণ বিদেশ থেকে আনে অথবা নিজেরা তৈরি করে। ফলে অভিভাবকদের কাছে প্রশিক্ষণের উপকরণগুলো সোনার হরিণ হয়েই থেকে যায়। তবে একান্ত চেষ্টা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণে আমরা দেখেছি, বেশির ভাগ অটিস্টিক শিশুই সমাজের বোঝা হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
- আরো একটি বিষয় আমাদের সবার জানা থাকা দরকার, তা হলো অটিস্টিক শিশুরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নয়। কারো কারো বুদ্ধ্যঙ্ক বয়সের তুলনায় সাধারণের চেয়ে কম হতে পারে, তবে তাদের বেশির ভাগই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। শুধু মনোযোগের ক্ষেত্র ভিন্ন। আমরা সাধারণ মানুষ অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করি। আর অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে দক্ষতাগুলো জন্মগত থাকে। তাইতো না শিখেও তারা অসম্ভব সুন্দর সুরে গাইতে পারে, আঁকতে পারে, কম্পিউটার চালাতে পারে, মিউজিক তৈরি করতে পারে এবং শারীরিক কসরতে পারদর্শী হয়। আবারও বলছি, তাদের হয়তো সামাজিক আচরণ শিখতে বা কথা বলতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তাই উন্নত বিশ্ব অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশে বিশেষ সচেষ্ট। আর ইতিহাসের পাতায় তাদের অবদান অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।
অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি ন্যাচারাল ডাইভারসিটি, মানব সৃষ্টির ভিন্নতা। তাই তথাকথিত শিক্ষিত, সামাজিক সাধারণ মানুষকে জানার ও বোঝার দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অটিজমবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা যেন নিজের অধিকার ভোগ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার হরণ না করি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নিজের অধিকার সম্পর্কে শেখার পাশাপাশি অন্যের অধিকার সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাঠও থাকতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ ভিন্ন সত্তার অধিকারী। আমরা কেউ কারো মতো নই। অটিস্টিক শিশুরাও একজনের চেয়ে অন্যজন একেবারেই ভিন্ন। সবার মতো তাদের পরিচয়ও মানুষ। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা যত বাড়বে, ততই এই ভিন্ন সত্তার মানুষগুলো সমাজে নিজেদের জায়গা খুঁজে পাবে…..