আপনার পরিচিত বা আশেপাশে কেউ যদি পেরিপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছে বলে মনে হয় তাহলে আমাদের সাথে Women Support Initiative Forum – WSIF যোগাযোগ করতে বলুন। গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরে মায়েরা যে জৈবিক, মানসিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যান, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
প্রসবের পরে, সব মায়েরাই কম বেশি বিষন্নতা অনুভব করে, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হতে পারে, যাকে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা যা পেরিপার্টাম ডিপ্রেশন বলা হয়। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা একমত যে প্রায় সাতজন মহিলার মধ্যে একজন এর ভুক্তভোগী। পেরিপার্টাম ডিপ্রেশন (PPD) প্রসবের কয়েক দিন বা এমনকি কয়েক মাস পরেও ঘটতে পারে। বেবি ব্লুজের মতই দুঃখ, হতাশা, উদ্বেগ, খটকা থাকে– কিন্তু সেগুলি অনেক বেশি দৃঢ়ভাবে অনুভব করেন। প্রতিদিনের রুটিন কাজগুলি করতেই বেগ পেতে হয়। লক্ষনগুলি এরকম হবেঃ
§ বিষণ্ণ মেজাজ বা গুরুতর মেজাজ পরিবর্তন
§ অতিরিক্ত কান্নাকাটি
§ শিশুর সাথে এটাচমেন্ট না থাকা
§ পরিবার এবং বন্ধুদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া
§ ক্ষুধা কমে যাওয়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়া
§ ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুমানো
§ অত্যধিক ক্লান্তি
§ যে কাজগুলি আগে উপভোগ করতেন সেগুলিতে আগ্রহ কমে যাওয়া
§ তীব্র বিরক্তি /রাগ / হতাশা/ অস্থিরতা
§ স্পষ্টভাবে চিন্তা করার বা মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
§ নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তা
সময়মত চিকিৎসা না নিলে পেরিপার্টাম বিষণ্নতা অনেক মাস ধরে থাকতে পারে। কিছু ব্যাপার প্রসবোত্তর বিষণ্নতার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে:
§ গর্ভবতী হওয়ার আগে বা গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতার ইতিহাস
§ গর্ভাবস্থার সময় বয়স (আপনার বয়স যত কম, সম্ভাবনা তত বেশি)
§ গর্ভাবস্থা সম্পর্কে দ্বিধাদ্বন্দ্ব
§ শিশুর সংখ্যা
§ মুড ডিজঅর্ডারের পারিবারিক ইতিহাস
§ চাকরি হারানো বা স্বাস্থ্যহানির মত ঘটনার মধ্য দিয়ে যাওয়া
§ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্ম
§ যমজ বা ট্রিপলেট থাকা
§ বিষণ্নতা বা মাসিকের আগে ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (PMDD) এর ইতিহাস থাকা
§ সন্তান পালনে সহায়তা করার কেউ না থাকা
§ দাম্পত্য কলহ
পেরিপার্টাম বিষণ্নতা নারীদের জন্য যেমন মারাত্মক এক স্বাস্থ্য সমস্যা, সন্তানের বিকাশের উপরেও এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি শিশুর জন্মের পর মায়ের চারপাশে যারা থাকেন সবারই উচিত সহমর্মিতার সাথে তাকে সাপোর্ট দেয়া।