You are currently viewing Period stories

Period stories

  • Post comments:0 Comments

Experience of first menstruation

Story 1

লাইফে প্রথমবার এমন কোন অভিজ্ঞতা আমি লিখতে যাচ্ছি। ইভেন এই অভিজ্ঞতা আমি কখনো কারো সাথে মৌখিকভাবেও শেয়ার করিনি। মনের মধ্যেই চাপা পরে আছে এত বছর ধরে।

ক্লাস সেভেনে যখন পড়ি তখন পিরিওড শুরু হয়। ২০০৩ সাল সেটা। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কারণ আশেপাশের অনেক ফ্রেন্ডদের ততদিনে পিরিওড শুরু হয়ে গিয়েছিল। আমি অপেক্ষায় ছিলাম আমার ও শুরু হবে। হোয়াইট ডিসচার্জ বেড়ে গিয়েছিল ২০০২ এর শেষ দিক থেকেই। আমার শুরু হবে বা শুরু হতে যাচ্ছে এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিক ছিল।

বেঠিক ব্যাপারটা তখনই হয় যখন আসলেই আমার পিরিওড শুরু হয় প্রথম মাসে। আম্মু তখন তুমুল ব্যস্ত। আম্মুর কাছ থেকে কাউন্সেলিং পাইনি। আম্মুর ভুল ছিলো আমাকে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে না দেওয়া। আমি জানিনা কেন আম্মু সেটার প্রয়োজনীয়তা তখন বোধ করেনি। আম্মুর বুদ্ধি নিয়ে ট্যিসু পেপার ইউজ করে আমি জাস্ট স্কুলের প্যান্টের উপর ট্যিসু পেপার দিয়ে স্কুলে চলে যাই। গেস হোয়াট? কী পরিমাণ হেভি ফ্লো হয় প্রথম কয়েক দিন। স্কুলের ফার্স্ট পিরিওড না গড়াতেই আমার ট্যিসু পেপার ভিজে শেষ।

ভয়ংকর ব্যাপারটা তখন ই ঘটে প্যান্টের নিচ দিয়ে ট্যিসু fall out করে। ছেলে মেয়ে কো-এডুকেশন স্কুল। ছেলেদের সামনেই ওই ঘটনাটা ঘটে। আমার মনে হচ্ছিলো ধরণী দ্বিধা হউ।  সবিতা ম্যাম বলে স্কুলে একজন মিস ছিলেন, উনার কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিন থাকতো, স্কুলেই স্টক হিসেবে। ম্যামের কাছ থেকে ন্যাপকিন নিয়ে আমি সেদিন  চালিয়ে দেই।

বাসায় এসে আম্মুকে বলার পরেও কেন জানি আম্মু বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি। আম্মু আসলেই তখন তুমুল ব্যস্ত চাকরী+ আমার ছোট ছোট দুইটা ভাইবোন কে নিয়ে। সেজন্যই কী আম্মু বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সেদিন সুযোগ পায়নি কিনা আমি জানিনা (এই গ্রুপে আম্মু আছে). আম্মুর ধারণা ছিল ট্যিসু পেপার ই এনাফ।

দুঃখের ব্যাপার দ্বিতীয় মাসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এরপর আমি বুঝাতে সক্ষম হই আমার স্যানিটারি ন্যাপকিন ই লাগবে।

আমি আজকে খুব অল্প শব্দে পুরো বিষয়টা লিখলাম। কিন্তু একজন ১৩ বছরের কিশোরীর কাছে পরপর দুই মাসেই জাস্ট ট্যিসু পেপার দিয়ে প্রটেকশন নিয়ে স্কুলে গিয়ে এশেমড হবার ব্যাপারটা এত সহজ ছিলনা। মানসিক কতটা ট্রমাটাইজড হয়েছিলাম আমি ভাষায় বুঝাতে পারবোনা।

আমি তখন নিজের দাবী বা চাহিদার ব্যাপারে অতোটা সোচ্চার ও ছিলাম না। অভিজ্ঞতাও ছিল না। আম্মুর সাথে ততটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও তখন ছিলনা। ভীষণ ভয় পেতাম। যেহেতু আমিই বড় মেয়ে আম্মুর ও হয়তো অভিজ্ঞতার অভাব ছিল, আম্মুও বুঝেনি কতটা হেভি ফ্লো হতে পারে, সেজন্য টিস্যু পেপারে কাজ হয়না, স্যানিটারি ন্যাপকিনই লাগে।

আজকের দিনে এমন ঘটনা শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্য। এতদিন পর এটা লিখতে গিয়েও বারবার ভয় পাচ্ছি।

এরপরের কয়েকটা বছর আমার মারাত্মক ফোবিয়া কাজ করতো। নির্ধারিত তারিখের আগে থেকেই ভীষণ ভয় লাগতো।

By Sifat Rahman

Story 2

২৮মে World Menstrual Hygiene Day আর এবারের  থিম ‘Periods in Pandemic’।

এটা তো সত্য, মহামারীতে নারীদের পিরিয়ড থেমে থাকবে না৷ আবার পিরিয়ডের জন্যেও অসুখ চুপ করে বসে থাকবে না৷ একবার চিন্তা করুন,,একজন নারী যিনি সংক্রমিত আর সম্পূর্ণ জৈবিক কারণে মাস ঘুরে তার পিরিয়ডও চলছে। আইসোলেশনে থাকা, সেই সাথে তাকে সেনিটারি প্যাডও বদলাতে হচ্ছে। তাই আমাদের সবার স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এ নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার। কিন্তু কথা না বললে সচেতনতা আসবে কী করে? মিন্সট্রুয়াল নিয়ে কিছু বলাটাই এই দেশে মুশকিল।

পুরুষতান্ত্রিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন এই সমাজে নারীদের মিন্সট্রুয়াল একটা নেতিবাচক, ভীতিকর, লজ্জারঅভিশাপের বিষয় মানুষের কাছে৷ আর পুরুষদের কাছে সস্তা রসিকতার বিষয়। অথচ এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈবিক বিষয়। পুরুষদের দেহে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। আবার নারীদের দেহে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। তারই ধারাবাহিকতায় হয় পিরিয়ড। এই প্রক্রিয়াটি যদি নারীর দেহে না ঘটতো তবে আপনার জন্মও হতো না৷ তবুও এ নিয়ে এত লুকোছাপা, এত নেতিবাচক মনোভাব আর নোংরা রসিকতা!

শুধু মানুষ নয়, মেরুদণ্ডী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে রেসাস প্রজাতির বানর,,শিম্পাজি,, গরিলা, ওরাংওটাং, কিছু প্রজাতির বাদুড় ও হাতিদের মধ্যেও এই মিন্সট্রুয়াল হয়ে থাকে। মানুষ তাই প্রকৃতির কোন ব্যতিক্রম নয়। এ নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবেই আমাদের সচেতন হতে হবে৷ নিরাপদ মাতৃত্ব, সুস্থ শিশুর জন্ম, সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর যৌন জীবনের জন্যেই সবার স্বার্থেই সচেতন হতে হবে। আর দিবসটি হচ্ছে পিরিয়ডকালীন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা সম্পর্কিত৷

এটা খুবই দুঃখজনক যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ নারীই কিন্তু তার জীবনের প্রথম পিরিয়ডে সেনিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারে নি। ঘরে তৈরি কোন কাপড় ব্যবহার করেই তাদের এই যাত্রা শুরু৷ আমিও ব্যতিক্রম নই। আমার প্রথম পিরিয়ড শুরু হয় ক্লাস সিক্সের বার্ষিক পরীক্ষার পরে। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ুয়া ছিলাম। সব বই পড়তাম। ইসলামিক বইগুলো তে হায়েজ নেফাজ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। মায়ের থেকে কখনো সচেতন হতে পারি নি৷ যেদিন পিরিয়ড হলো, আমি বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু কাউকে বলি নি। এভাবেই স্কুলে গিয়ে রেজাল্ট আনলাম। কোথাও অবশ্য দাগ ভরে নি,,পায়জামা ছাড়া। পরে আম্মাকে বলার পর, আম্মা দেখি একটুও বকে নি। বললো, আগে বলিস নি কেন? তারপর কাপড়ের ব্যবহার শিখিয়ে দিলো। ব্যস।

পুরো ব্যাপারটা ই এত অস্বাস্থ্যকর, এখন বুঝি। একটুও ভালো লাগতো না, একটু পর পর কাপড় ধোয়া। আর স্কুলে গেলে টেনশন হতো খুব। আর কাপড় শুকাতাম দরজার পিছনে। যদিও রোদে শুকানোর কথা বলতো মা। তবে বর্ষায় সমস্যা হয়ে যেত। মাকে দোষ দিই না। তার যেটুকু সামর্থ্য সে তাই করেছে৷

পরে নিজের আর্থিক সামর্থ্য হবার পরে মাকেও প্যাড বা কটন কিনে দিয়েছি। যদিও মা বেশিদিন এসব সুবিধার আরাম নিতে পারে নি৷ মেনোপজ হয়ে গেছে৷

তবে আদিম নারীরা ছিল আমাদের চেয়েও অসহায়। তারা যা যা ব্যবহার করতো, সেসব শুনলে গা শিউড়ে উঠে। ঘাস, মাটি,,কাঠের টুকরো, প্যাপিরাস পাতা, এমন কি ইউরোপের কোথাও কোথাও ব্যাঙ পুড়িয়ে ব্যবহার করা হতো ফ্লো কমানোর জন্য। এমনি সব অস্বাস্থ্যকর জিনিস ব্যবহার আর তার উপর কুসংস্কার তো ছিলোই যে, নারীরা অচ্ছুৎ।

বর্তমানে আধুনিক নারীরা সেনিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছেন বটে। কিন্তু এটিও যে সব সময় নিরাপদ তা বলা যাবে না। এই প্যাডগুলোতে  রাসায়নিক এবসরভার ব্যবহার করা হয় যা থেকে পরবর্তীতে নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

অনেক আধুনিক নারীই বর্তমানে কাপ ব্যবহার করে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এটি ব্যবহারে সুবিধা, খরচ খুব কম, নিরাপদ, স্বাস্হ্যকর। আবার অনেকেই এটি ব্যবহার করতে অস্বস্তিবোধ করেন। সব কিছুরই কিছু অসুবিধা থাকে৷ তেমনি এ কাপ ব্যবহারেরও অসুবিধা আছে৷ তাই গাইনী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এটি ব্যবহার করা ভালো।

নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এমনিতেই তাদের অচ্ছুৎ করে দেখা হয়। আর এই মহামারীতে এটি মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে, যেখানে নারীর নিজের কথা বলার জায়গা নেই বললেই চলে। প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্রের সাথে  সেনিটারি ন্যাপকিনও স্টক করে রাখা উচিত। আর এটি ডিসচার্জের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে,,ভালো করে কাগজ ও প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়ে ফেলা উচিত।

কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নারীবান্ধব পরিবেশ, টয়লেট থাকা উচিত। সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। অফিসগুলোতে নারীরা কিন্তু তাদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ছুটি পায় না, এই সুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে প্রতিটি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেনিটারি প্যাড সংগ্রহের সুব্যবস্থা রাখা উচিত। আলাদা একটি বিশেষ টয়লেটও রাখা উচিত, যা শুধু মাত্র পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নারীরা ব্যবহার করবে৷ এবং এটি স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্মত!সহজ ভাষায় হাইজেনিক।

অবস্থাপন্ন নারীরা সেনিটারি ন্যাপকিন বা মিন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করতে পারলেও দেশের নারীদের বড় একটা অংশ কিন্তু এখনো অস্বাস্থ্যকরভাবেই এ সময়টা পাড়ি দেয়। তাই সেনিটারি ন্যাপকিনের মূল্য কমিয়ে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনা উচিত৷

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নারীর দেহ থেকে ব্যক্তিভেদে ১০ থেকে ১০০ মিলিলিটার বা তারও বেশি রক্ত বেরিয়ে যায়৷ স্বাভাবিকভাবেই এ সময়ে শরীর কিছুটা দূর্বল থাকে। অনেকের লো প্রেসার, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা ইত্যাদি অসুবিধাও থাকে৷ এছাড়াও হরমোনের  উঠানামার কারণে মেজাজ খারাপ, বিষন্নতা, ঘুমে ব্যাঘাত এ ধরনের সমস্যাও নারীরা প্রতিনিয়ত ফেস করেন। মিন্সট্রুয়ালের পাশাপাশি পিএমএস সম্পর্কে সচেতনতাও নারী ও পুরুষ প্রত্যেকেরই দরকার। তাই ঘরে/বাইরে নারীর প্রতিটি কাজে সকলের সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকা প্রয়োজন। তবে এ ব্যাপারে মাত্রাছাড়া কৌতুহল দেখাতে গিয়ে নারীকে বিব্রত ও বিরক্ত করা সভ্যতা বিবর্জিত আচরণ করে ফেলা যাবে না।

By Tanya Kamrun Nahar 

Leave a Reply