ব্যবহারে পরিবর্তনঃ
ব্যক্তির মানসিক পরিবর্তনের মূল লক্ষণ হলো তার আচার আচরণে পরিবর্তন আসা। যেমন, একজন চুপচাপ শান্তশীষ্ট মানুষের হঠাৎ কিছুদিনে বেশ চঞ্চলপ্রকৃতির, বাচাল ধরনের হয়ে যাওয়া। বিজ্ঞবান বা গম্ভীর প্রকৃতির কারো হঠাৎ তার কর্ম থেকে আগ্রহ উঠে যাওয়া, বেচে থাকার আশা হারিয়ে ফেলা- এসবই মানসিক পরিবর্তন বা ডিসঅর্ডারের লক্ষণ। কখনো কখনো পরিবারের, বন্ধুবান্ধবদের সাহচর্যে সে ব্যক্তি আগের রুপে ফিরে আসতে পারে, আবার এর বিপরীত দিকটিও দেখা যায় অনেকসময়।
অগোছালো হয়ে যাওয়াঃ
কোনো কিছু হঠাৎ ভুলে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এগুলোও পরিবর্তনের অংশ। দেখা যায়, যে ব্যক্তিটি আগে বেশ গোছালো ছিলো, সে-ই এখন তার জীবনযাপন নিয়ে বেখেয়ালি। কেউবা কারো সাথে কথা মাঝে কথার বিষয়টি ভুলে যাচ্ছে, সবকিছু অচেনা মনে হচ্ছে, যা বেশ জটিল মানসিক অশান্তি।
ঘুম কিংবা খাদ্যাভাসে পরিবর্তনঃ
মানসিক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ঘুমের সময়ের আকস্মিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের মাত্রা যেমন হঠাৎ বেড়ে যায়, তেমনি এর উল্টোটাও ঘটে। তন্দ্রাহীনতা যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের জন্যই ব্যতিক্রম দশা। ঘুমে দেখা স্বপ্নগুলো অনেকসময় ব্যক্তিকে হাপিয়ে তোলে, দ্রুত রক্তসঞ্চালন বেড়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ঘুমোনোর কারণে অবসাদ পেয়ে বসে, ক্লান্তিতে ভোগে। কখনো, খাওয়াদাওয়ার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যেতে দেখা যায়।
প্রভাবনাঃ
আমাদের জীবনের সবধরনের অভিজ্ঞতা- ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক, উভয়ই আমাদের জীবনের চলার পথকে প্রভাবিত করে। আবার, এটি অনেকসময় বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাড়ায় যখন ব্যবহার,মানসিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন হতে থাকে। পরিশেষে এসব জটিলতা মানুষের কাজকর্ম, সামাজিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
যখন এসব মৌলিক জিনিসগুলো মানুষের জীবনকে আঁকড়ে ধরে, তখন একজন ব্যক্তির পক্ষে আসলেই ধারণা করা কঠিন হয়ে পড়ে সেটি তার মানসিক সমস্যা কিনা।
তীব্রতাঃ
একইভাবে, দুঃখ, রাগ, ভীতি সময়-অসময়ে যখন আমাদের পেয়ে বসে, সেটির তীব্রতা বা ভয়াবহতার হেরফের হয় পরিস্থিতির উপর। এসব অনুভূতিগুলো কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে গভীরভাবে ভেবে না দেখলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতি হওয়া সম্ভব না। উপরন্তু, তাদের প্রতিক্রিয়াগুলির তীব্রতা পরিস্থিতিগুলিকেই না শুধু, সামগ্রিকভাবে তাদের জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে।
আকস্মিকতাঃ
ভয়ভীতি বেড়ে যাওয়া, যা পূর্বে বিশ্বাসযোগ্য ছিল সেগুলোতে অবিশ্বাস করা, হঠাৎ হঠাৎ কারো অস্তিত্ব টের পাওয়া, নিজের সাথে একা একা অতিরিক্ত কথা বলা- এগুলো একধরনের মানসিক রোগ। যারা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ, তারা এই ধারনাগুলির বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ সত্ত্বেও মিথ্যা বিশ্বাস করতে পারে – এটি মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ।