প্যানিক এটাকের লক্ষণগুলো কী এবং কিভাবে একে চিহ্নিত করা যায় (পর্ব – ২)
কোনো পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ভয় পাওয়া কিংবা আতংকিত হয়ে পড়া এবং সেটা সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকা হলো এনজাইটি ডিজঅর্ডার বা উদ্বেগজনিত রোগ। প্যানিক এটাক হলো একটা এনজাইটি ডিজঅর্ডার।
প্যানিক এটাক দুই ধরনের হতে পারে:
- প্রত্যাশিত প্যানিক এটাক: এতে ভয় বা আতংক হতে পারে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা পরিস্থিতি থেকে যেমন প্লেনে করে উড়ন্ত অবস্থায় ভয়ে প্যানিক এটাক হতে পারে।
- অপ্রত্যাশিত প্যানিক এটাক: কোনোরকম পূর্বসংকেত ছাড়াই বা কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দ্বারা ট্রিগার হওয়া ছাড়াই প্যানিক এটাক হতে পারে।
মাঝেমধ্যে বিভিন্ন চাপের পরিস্থিতিতে আমাদের শরীরে অনেক লক্ষণ দেখা যায় যা প্যানিক এটাকেও দেখা যায়। তবে এসব লক্ষণ দেখেই মনে করা যাবেনা ‘আমার প্যানিক এটাক ডিজঅর্ডার আছে’। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন (APA) এর DSM-5 এ কতগুলো লক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে যেগুলো থেকে নূন্যতম চারটি বা এর বেশি লক্ষণ এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে কোনো ব্যক্তির মধ্যে উপস্থিত থাকলে তখনই সেটাকে প্যানিক এটাক ডিজঅর্ডার বলা যাবে।
লক্ষণগুলো হলো:
- বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
- শরীর কাঁপতে থাকা
- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি হওয়া
- বমি বমি ভাব বা পেটে ব্যথা
- মাথা ঘোরা, অস্থির লাগা এবং অজ্ঞান বোধ করা
- অবাস্তবতার অনুভূতি বা নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুভূতি হওয়া
- নিয়ন্ত্রণ হারানোর বা পাগল হয়ে যাওয়ার ভয় হওয়া
- মারা যাওয়ার ভয় হওয়া
- অসাড়তা বা ঝনঝন শব্দের মতো সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া (পেরেস্থেসিয়াস)
- ঠান্ডা লাগা বা গরম ফ্লাশ অনুভব করা
- প্যানিক এটাকের লক্ষণ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দুটো ব্যাপার অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে-
- কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওষুধপত্র গ্রহণ করে থাকলে বা কোনোরকম ড্রাগ/এলকোহল নিয়ে থাকলে সেসবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা। দেখা গেলে সেটাকে শুধু প্যানিক এটাক বলা যাবেনা।
- অন্য কোনো মানসিক সমস্যা যেমন সোশ্যাল ফোবিয়া, ওসিডি, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার ইত্যাদি কোনটি থাকলে তার কারণে এসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা।
রোগকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারলে সে রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া সহজ হয়।